সংসদে হাইভোল্টেজ ড্রামা! আসন সংখ্যা ৮৫০ করার বিল হারল মোদি সরকার, নেপথ্যে কি মাস্টারপ্ল্যান?

২০২৯ সালের লক্ষ্যপূরণে এক মাস্টারস্ট্রোক দিতে চেয়েছিল কেন্দ্র, কিন্তু অঙ্ক মিলল না সংসদের পাটিগণিতে। লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব এবং মহিলা সংরক্ষণের পথ প্রশস্ত করতে আনা ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিলটি লোকসভায় মুখ থুবড়ে পড়ল। প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় বিলটি পাশ করাতে ব্যর্থ হলো নরেন্দ্র মোদি সরকার।
ভোটের সমীকরণ ও পরাজয়
শুক্রবার লোকসভায় যখন ভোটাভুটি হয়, তখন উপস্থিত ছিলেন ৫২৮ জন সাংসদ। সংবিধান সংশোধনীর নিয়ম অনুযায়ী, বিল পাসের জন্য অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৩৫২টি ভোটের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ২৯৮টি এবং বিপক্ষে পড়ে ২৩০টি। ফলে সরকার লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৫৪টি ভোট দূরেই থমকে যায়।
হার নিশ্চিত জেনেও কেন এই ‘ঝুঁকি’?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরাজয় আসলে বিজেপির এক সুপরিকল্পিত ‘রাজনৈতিক কৌশল’। সরকার জানত সংখ্যাতত্ত্ব তাদের পক্ষে নেই, তবুও ভোটাভুটিতে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি ‘আইনগত রেকর্ড’ তৈরি করা।
বিরোধীদের নিশানা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফলাফল ঘোষণার পরেই সরব হয়েছেন। তাঁর দাবি, এই ভোটের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেল কারা মহিলা সংরক্ষণের বিরোধী।
ভিকটিম কার্ড: পরাজয়কে অস্ত্র করে বিজেপি এখন জনমতের দরবারে গিয়ে বলতে পারবে— “আমরা চেয়েছিলাম, কিন্তু বিরোধীরাই নারী শক্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
ডিলিমিটেশন ও বিরোধী অনড় অবস্থান
কেন্দ্রের যুক্তি ছিল, ২০২৯ সালের নির্বাচনে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ আসন নিশ্চিত করতেই লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। কিন্তু বিরোধী শিবির, বিশেষ করে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটের অভিযোগ—মহিলা সংরক্ষণের আড়ালে আসন পুনর্বিন্যাস বা ‘ডিলিমিটেশন’ আসলে একটি রাজনৈতিক চাল। তাঁদের দাবি, ১৯৭১ সালের আসন কাঠামো রক্ষা করা জরুরি।
ভবিষ্যৎ কী?
এই ‘প্রতীকী পরাজয়’ এখন জাতীয় রাজনীতির প্রধান বয়ান হয়ে উঠতে চলেছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৯-এর লোকসভা ভোটের আগে মোদি সরকার এই ব্যর্থতাকে বিরোধীদের ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে প্রচার করবে। সংসদে বিলটি হারলেও, রাজনৈতিক ময়দানে একেই বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চলেছে বিজেপি নেতৃত্ব।
একদিকে যখন ডিলিমিটেশন নিয়ে বিরোধীরা ‘পয়জন পিল’-এর তত্ত্ব খাড়া করছে, অন্যদিকে সরকার পক্ষ এখন ‘বলিদান’-এর ইমেজ নিয়ে ভোটারদের কাছে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংসদের লড়াই আপাতত শেষ হলেও, আসল লড়াই যে এবার ব্যালট বক্সে, তা বলাই বাহুল্য।