কারও আসন কমবে না, বরং বাড়বে! লোকসভায় ৮৫০ সদস্যের নতুন সমীকরণ বোঝালেন অমিত শাহ

লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বা ‘ডিলিমিটেশন’ (Delimitation) নিয়ে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির দীর্ঘদিনের আশঙ্কা অবশেষে দূর করার চেষ্টা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার সংসদের বিশেষ অধিবেশনে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, প্রস্তাবিত আসন পুনর্বিন্যাস হবে একটি “নো-লস” (No-Loss) মডেলে। অর্থাৎ, কোনো রাজ্যেরই রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কমবে না, বরং পাল্লা দিয়ে বাড়বে সব রাজ্যেরই আসন সংখ্যা।
৮৫০ আসনের লোকসভা: অঙ্কটা কী?
অমিত শাহ জানান, লোকসভার মোট আসন সংখ্যা বর্তমানের ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর ফলে আসন পুনর্বিন্যাসের সময় কোনো রাজ্যের আসন সংখ্যা কমানোর প্রয়োজন পড়বে না। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, যারা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে (বিশেষত দক্ষিণের রাজ্যগুলি), তারা যাতে কোনোভাবেই রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা না হয়, সেদিকে সরকার নজর রাখছে।
কোন রাজ্যের আসন কত বাড়তে পারে? (সম্ভাব্য তালিকা):
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বেশ কিছু রাজ্যের একটি গাণিতিক অনুপাত তুলে ধরেন:
-
তামিলনাড়ু: বর্তমান ৩৯টি আসন বেড়ে হতে পারে ৫৯টি।
-
কর্ণাটক: বর্তমান ২৮টি আসন বেড়ে হতে পারে ৪২টি।
-
অন্ধ্রপ্রদেশ: বর্তমান ২৫টি আসন বেড়ে হতে পারে ৩৮টি।
-
তেলেঙ্গানা: বর্তমান ১৭টি আসন বেড়ে হতে পারে ২৬টি।
-
কেরল: বর্তমান ১৬টি আসন বেড়ে হতে পারে ২০টি।
কেন এই ‘নো-লস’ মডেল?
এতদিন দক্ষিণের রাজ্যগুলির অভিযোগ ছিল, উত্তর ভারতের রাজ্যগুলি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েও ডিলিমিটেশনের ফলে বেশি আসন পাবে, আর দক্ষিণের রাজ্যগুলি জনসংখ্যা কমিয়ে শাস্তিস্বরূপ সংসদীয় ক্ষমতা হারাবে। অমিত শাহ এদিন সেই বিতর্ক ধামাচাপা দিয়ে বলেন, অতিরিক্ত আসন সৃষ্টির ফলে অনুপাত বজায় রেখেও সব রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো সম্ভব হবে। এটি কার্যকর হলে মহিলা সংরক্ষণের ৩৩ শতাংশ কোটা পূরণ করাও সহজ হবে।
বিজেপির পাল্টা চাল?
বিরোধীরা যখন আসন পুনর্বিন্যাসকে বিজেপির ভোট বাড়ানোর ‘অস্ত্র’ হিসেবে দেগে দিচ্ছে, তখন অমিত শাহর এই পরিসংখ্যানভিত্তিক ব্যাখ্যা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এতে যেমন দক্ষিণের ক্ষোভ প্রশমিত করার চেষ্টা করা হয়েছে, তেমনই বড় রাজ্যগুলোতেও আসন বাড়িয়ে মাস্টারস্ট্রোক দেওয়ার পথে হাঁটছে কেন্দ্র।
এডিটোরিয়াল নোট: ২০২৬-এর ডিলিমিটেশন বিল ভারতের সংসদীয় ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিতে পারে। ৮৫০ সদস্যের বিশাল সংসদ একদিকে যেমন বড় অংশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে এটি বাস্তবায়িত করা প্রশাসনের কাছেও এক বড় চ্যালেঞ্জ।