পায়ের ছবি তুলেই লাখ টাকা আয়! ভারতে এই কাজ কি আইনত বৈধ? জেনে নিন বিপদের দিকগুলো

ইন্টারনেটের দুনিয়ায় এখন অনেক কিছুই পণ্য। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন মানুষের পায়ের ছবি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পায়ের ছবি বিক্রি করে অনেকেই মোটা টাকা উপার্জন করছেন। ভারতেও এই ট্রেন্ডে পা মেলাচ্ছেন অনেকে। তবে আয়ের এই পথটি যতটা সহজ মনে হচ্ছে, আইনি মারপ্যাঁচ কিন্তু ততটাই জটিল।
আইন কী বলছে?
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে সাধারণ পায়ের ছবি বিক্রি করা সরাসরি বেআইনি নয়। যদি ছবিগুলো স্বাভাবিক হয় এবং তাতে কোনো ধরনের অশ্লীলতা বা যৌন ইঙ্গিত না থাকে, তবে তা বিক্রি করতে আইনি বাধা নেই। তবে এর পেছনে রয়েছে কিছু কঠিন শর্ত:
১. অশ্লীলতা ও পর্নোগ্রাফি আইন (Obscenity Laws):
যদি কোনো ছবি অশ্লীল হয় বা যৌন সুড়সুড়ি দেওয়ার উদ্দেশ্যে তোলা হয়, তবে তা ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) এবং আইটি আইনের (IT Act) আওতায় অপরাধ। অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি বা শেয়ার করার অপরাধে বড় অঙ্কের জরিমানা ও জেলের সাজা হতে পারে।
২. অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষা (POCSO):
১৮ বছরের নিচে অর্থাৎ নাবালক বা নাবালিকাদের ছবি তোলা বা এই ধরণের কাজে তাদের যুক্ত করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। এই ক্ষেত্রে আইন অত্যন্ত কঠোর এবং এর পরিণাম হতে পারে দীর্ঘমেয়াদী জেল।
৩. ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সম্মতি:
নিজের ছবির ক্ষেত্রে সমস্যা না থাকলেও, অন্য কারোর পায়ের ছবি তাঁর বিনা অনুমতিতে বিক্রি করা বা অনলাইনে আপলোড করা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন (Right to Privacy)। এর ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন।
৪. ট্যাক্স ও আয়ের হিসাব:
অনলাইনে ছবি বিক্রি করে যে আয় হয়, তা ফ্রিল্যান্সিং আয়ের আওতায় পড়ে। ভারতের আয়কর আইন অনুযায়ী, এই আয় থেকে প্রাপ্ত অর্থের ওপর নির্দিষ্ট হারে ট্যাক্স দেওয়া বাধ্যতামূলক।
সুরক্ষার টিপস:
-
প্ল্যাটফর্ম যাচাই: ছবি বিক্রির আগে যে ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহার করছেন, তার বিশ্বস্ততা যাচাই করে নিন।
-
পরিচয় গোপন রাখা: নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বজায় রাখতে ছবি তোলার সময় মুখ বা পরিচয় প্রকাশ না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
-
স্ক্যাম থেকে সাবধান: অনেক সময় ক্রেতা সেজে প্রতারকরা আপনার ব্যক্তিগত তথ্য হাতানোর চেষ্টা করতে পারে, তাই সাবধান থাকা জরুরি।
এডিটোরিয়াল নোট: ইন্টারনেটে আয়ের ঝোঁক যেমন বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে সাইবার অপরাধের ঝুঁকি। পায়ের ছবি বিক্রি করা ভারতে পুরোপুরি নিষিদ্ধ না হলেও, আইনি সীমা এবং শালীনতা বজায় না রাখলে হিতে বিপরীত হতে পারে।