নেহরুর ১৯২৮-এর রিপোর্ট থেকে রাজীবের পঞ্চায়েত বিল— সংসদে দাঁড়িয়ে ইতিহাসের পাতা ওল্টালেন প্রিয়াঙ্কা

সংসদের বিশেষ অধিবেশনে নারী সংরক্ষণ বিল বা ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ নিয়ে যখন বিজেপি কৃতিত্ব নেওয়ার লড়াইয়ে মগ্ন, ঠিক তখনই পাল্টা চাল দিলেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। বৃহস্পতিবার লোকসভায় দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, নারী সংরক্ষণের ভাবনা কোনো নতুন বিষয় নয়; বরং এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল মতিলাল নেহরুর হাত ধরে। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার যেভাবে বিষয়টিকে নিয়ে রাজনীতি করছে, তা দেখলে খোদ মহাজ্ঞানী চাণক্যও স্তম্ভিত হতেন।
ইতিহাসের পাঠ ও নেহরু-গান্ধী পরিবারের কৃতিত্ব:
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী তাঁর বক্তৃতায় বর্তমান শাসক দলকে মনে করিয়ে দেন যে, সংরক্ষণের এই দাবি কোনো একক দলের ফসল নয়।
-
মতিলাল নেহরুর অবদান: ১৯২৮ সালে মতিলাল নেহরু তাঁর রিপোর্টে ১৯টি মৌলিক অধিকারের কথা বলেছিলেন, যেখানে নারীদের সমানাধিকারের বীজ বপন করা হয়েছিল। ১৯৩১-এর করাচি অধিবেশনেও যা স্বীকৃতি পায়।
-
রাজীব গান্ধীর উদ্যোগ: পঞ্চায়েত ও পৌরসভাগুলোতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা সর্বপ্রথম রাজীব গান্ধী সরকারই চালু করেছিল বলে দাবি করেন প্রিয়াঙ্কা।
-
মনমোহন-সোনিয়া জুটি: ২০১০ সালে ইউপিএ আমলেই রাজ্যসভায় এই বিল পাশ হয়েছিল, যা লোকসভায় মতৈক্যের অভাবে ঝুলে ছিল।
রাহুল গান্ধীকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি:
ওয়ানাডের সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কটাক্ষ করে বলেন:
“প্রধানমন্ত্রী হয়তো বাইরে রাহুল গান্ধীকে নিয়ে উপহাস করেন, কিন্তু নিজের বাসভবনে ফিরে গিয়ে রাহুলের কথাগুলো নিয়েই তিনি চিন্তাভাবনা করেন। ২০১৮ সালেই রাহুল গান্ধী চিঠি লিখে ২০১৯-এর মধ্যে এই বিল কার্যকর করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।”
বিজেপির ‘কুণ্ঠা’ ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন:
প্রিয়াঙ্কা বলেন, প্রধানমন্ত্রী যতই দাবি করুন যে তিনি কোনো কৃতিত্ব চান না, আসলে এই বিলের সময়জ্ঞান নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। সরকার কেন ৩০ বছর আগের ঝুলে থাকা ইস্যু নিয়ে এখন তাড়াহুড়ো করছে, তা নিয়ে রহস্য দেখছেন তিনি। তাঁর মতে, নারীদের নিছক ভোটব্যাঙ্ক না ভেবে প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিশ্ব প্রেক্ষাপটে ভারতের লড়াই:
প্রিয়াঙ্কা মনে করিয়ে দেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশেও নারীদের ভোটাধিকার পেতে ১৫০ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। কিন্তু ভারতের সংবিধানে শুরু থেকেই ‘এক নাগরিক, এক ভোট, এক মূল্য’ নীতি নিয়ে আসা হয়েছিল, যার কৃতিত্ব কংগ্রেসেরই।
এডিটোরিয়াল নোট: মোদীর ‘হুঁশিয়ারি’র পাল্টা হিসেবে প্রিয়াঙ্কার এই ‘ইতিহাস পুরাণ’ দিল্লির রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সংরক্ষণের কৃতিত্ব নিয়ে এখন বিজেপি বনাম কংগ্রেসের এই লড়াই কার ঘরে মহিলা ভোট টানে, সেটাই এখন দেখার।