বিরোধিতা করলে নারীশক্তি ক্ষমা করবে না!’ সংসদে দাঁড়িয়ে বিরোধীদের সরাসরি চ্যালেঞ্জ মোদীর

সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল বা ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ নিয়ে যখন বিতর্কের পারদ তুঙ্গে, তখনই আসরে নামলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার সংসদে দাঁড়িয়ে বিরোধীদের উদ্দেশ্যে সোজাসুজি হুঁশিয়ারি ছুঁড়ে দিলেন তিনি। তাঁর সাফ কথা— যারা এই ঐতিহাসিক বিলের বিরোধিতা করবে, তাদের ভবিষ্যৎ বড় বিপদের মুখে পড়বে, কারণ দেশের কোটি কোটি নারী এখন তাঁদের ওপর নজর রাখছেন।
মোদীর গলায় চ্যালেঞ্জের সুর:
লোকসভা ও বিধানসভাগুলোতে ৩৩ শতাংশ নারী সংরক্ষণের পথ প্রশস্ত করতে তিনটি নতুন বিল পেশ করেছে কেন্দ্র। এরপরই প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় উস্কানি ও দৃঢ়তার মিশেলে বিরোধীদের উদ্দেশ্যে বলেন:
“নারীরা সমস্ত সাংসদদের ওপর নজর রাখছেন। যারা অতীতে নারীর অধিকার আটকে দেওয়ার ‘দুষ্কর্ম’ করেছে, ইতিহাস তাদের প্রতি সদয় হয়নি। এবারও বিরোধিতা করলে তার পরিণাম আপনাদের ভোগ করতে হবে।”
‘অভিপ্রায়ের ওপর নজর রাখছে দেশ’:
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, এবারের সিদ্ধান্ত কেবল ভোটের অঙ্ক নয়, বরং সদিচ্ছার পরীক্ষা। তিনি বলেন, দেশ আজ সাংসদদের সিদ্ধান্তের চেয়ে বেশি তাঁদের ‘অভিপ্রায়’ বা সদিচ্ছার দিকে তাকিয়ে আছে। মোদী মনে করিয়ে দেন যে, এর আগেও যারা মহিলাদের অধিকার দেওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করেছিল, দেশের নারীশক্তি তাদের কোনোদিন ক্ষমা করেনি।
কেন চাপে বিরোধীরা?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী মোদী এই বিলটিকে একটি আবেগপূর্ণ এবং নৈতিক লড়াই হিসেবে তুলে ধরেছেন।
-
নারীবাদী অস্ত্র: বিলের বিরোধিতা করলে বিরোধীদের ‘নারী-বিরোধী’ তকমা দিয়ে জনমানসে প্রচার করার মোক্ষম সুযোগ পাবে বিজেপি।
-
সীমানা পুনর্বিন্যাস বিতর্ক: ডিলিমিটেশন বা আসন সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি থাকলেও, মোদীর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ তাদের পিছু হঠতে বাধ্য করতে পারে।
এক নজরে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা:
-
নারীরা তাঁদের অধিকারের প্রশ্নে আপসহীন।
-
বিল পাস করানোকে দেশ ‘নারী শক্তির বন্দনা’ হিসেবে দেখছে।
-
রাজনৈতিক স্বার্থে বিল আটকে দেওয়ার চেষ্টা করলে ভোটারদের কাছে ভুল বার্তা যাবে।
এডিটোরিয়াল নোট: ভোটের ঠিক আগে মহিলা সংরক্ষণ বিলকে সামনে রেখে নরেন্দ্র মোদী যে চালটি দিলেন, তাতে বিরোধীদের কাছে ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’ দশা তৈরি হয়েছে। একদিকে ডিলিমিটেশন নিয়ে আপত্তি, অন্যদিকে মহিলা ভোটের মোহ— সব মিলিয়ে উত্তাল সংসদ।