আইএস-আইপিএস বদলি মামলা: কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়ালে যুক্তি খুঁজেও কেন পিছিয়ে এল সুপ্রিম কোর্ট?

বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে রাজ্যের একগুচ্ছ আইএএস (IAS) এবং আইপিএস (IPS) আধিকারিক বদলির সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিল, আপাতত কলকাতা হাইকোর্টের রায়ই বহাল থাকছে। ফলে ৩৭৫ জন অফিসারের বদলি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হলো।

আদালতে কল্যাণের তীক্ষ্ণ সওয়াল: রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ একতরফাভাবে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ এবং আধিকারিকদের বদলি করেছে। তিনি দাবি করেন:

“২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন বা উপনির্বাচন পর্যন্তও বদলির সময় রাজ্যের মতামত নেওয়া হতো। কিন্তু এবার অত্যন্ত বাধ্যতামূলক সেই নিয়ম ভাঙা হয়েছে। রাজ্যের সঙ্গে কোনো পরামর্শই করা হয়নি।”

প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ: কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়ালের আইনি গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে মেনে নেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তিনি মন্তব্য করেন, এই সওয়ালের একটি আইনি প্রেক্ষিত আছে এবং ভবিষ্যতে এর বৃহত্তর প্রভাব হতে পারে। কিন্তু কেন হস্তক্ষেপ করল না আদালত? প্রধান বিচারপতি জানান:

“রাজ্যে সামনেই নির্বাচন। এই মুহূর্তে আমরা হস্তক্ষেপ করলে প্রশাসনিক জটিলতা ও সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। তাই এখনই মামলাটি শুনতে আমরা আগ্রহী নই।”

বিচারাধীন রইল মামলা: মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং ডিজিপি-সহ গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকদের অপসারণ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তাতে আপাতত কোনো স্থগিতাদেশ দিল না শীর্ষ আদালত। তবে এই বদলির আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্নটি ভবিষ্যতে খতিয়ে দেখার জন্য মামলাটি বিচারাধীন রাখা হয়েছে।

ভোটের ময়দানে প্রভাব: ভোটের মাত্র কয়েকদিন আগে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব আরও শক্তিশালী হলো। রাজ্য সরকার আইনি লড়াইয়ে নৈতিক জয় দাবি করলেও, প্রশাসনিক স্তরে এই ৩৭৫ জন অফিসারের বদলি কার্যকর হওয়ায় ধাক্কা খেল নবান্ন—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।