ভোটের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগেও মিলবে ভোটাধিকার! সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক নির্দেশে ভাগ্য ফিরছে লক্ষ লক্ষ মানুষের

বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বড়সড় মানবিক ও আইনি সিদ্ধান্ত নিল সুপ্রিম কোর্ট। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া বা বিচারনাধীন থাকা ব্যক্তিদের জন্য নতুন আশার আলো দেখাল শীর্ষ আদালত। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচনের মাত্র দু’দিন আগে পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল থেকে ছাড়পত্র পেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভোট দিতে পারবেন।
সংবিধানের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ: বিচারপতিদের বেঞ্চ সংবিধানের ১৪২ ধারা (Article 142) প্রয়োগ করে এই বিশেষ নির্দেশ জারি করেছে। সাধারণত নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ বা স্থির করে দেওয়া হয়। কিন্তু এবার ৯০ লক্ষেরও বেশি মানুষের নাম বাদ যাওয়ার বিতর্ক মাথায় রেখে এই ‘রক্ষাকবচ’ দিল আদালত।
ডেডলাইন এক নজরে: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, দুই দফার ভোটের জন্য আলাদা সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে:
-
প্রথম দফা (২৩ এপ্রিল ভোট): যাঁদের নাম বিচারনাধীন, ট্রাইব্যুনাল যদি ২১ এপ্রিল পর্যন্ত তাঁদের ছাড়পত্র দেয়, তবেই তাঁরা ভোট দিতে পারবেন।
-
দ্বিতীয় দফা (২৯ এপ্রিল ভোট): এই দফার ক্ষেত্রে ছাড়পত্র পাওয়ার শেষ তারিখ ২৭ এপ্রিল।
সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের নির্দেশ: আদালত নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে যে, ট্রাইব্যুনালের রায়ের ভিত্তিতে নতুন করে ‘সাপ্লিমেন্টারি ইলেকটোরাল রোল’ বা অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। যাতে নাম থাকা সত্ত্বেও কেউ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন। তবে ট্রাইব্যুনাল যাদের আবেদন খারিজ করে দেবে, তাঁরা কোনোভাবেই ভোট দিতে পারবেন না।
পরিসংখ্যানের ভয়াল চিত্র: রাজ্যে মোট ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটার বিবেচনাধীন ছিলেন। যার মধ্যে ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জনের নাম বাদ পড়েছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকা ধরলে সব মিলিয়ে বাদ পড়ার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪৫। এই বিশাল সংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করতেই আদালতের এই হস্তক্ষেপ।
ট্রাইব্যুনালের কাজ ও বিভ্রান্তি: জোকার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ইনস্টিটিউটে মোট ১৬টি ট্রাইব্যুনাল সোমবার থেকে কাজ শুরু করেছে। তবে অভিযোগকারী এবং আইনজীবীদের মধ্যে এখনও কিছু বিভ্রান্তি রয়ে গিয়েছে। শুনানির ডাক কীভাবে আসবে এবং রায়ের কপি কোথায় পাওয়া যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও আদালতের এই নতুন নির্দেশ তাঁদের লড়াইয়ে অক্সিজেন জোগাল।