চিনকে শায়েস্তা করতে এবার ‘অদৃশ্য’ সুখোই! ভারতের জন্য পুতিনের ‘গোল্ডেন অফার’, কাঁপছে ড্রাগন!

বিশ্ব রাজনীতিতে ফের একবার নিজেদের অটুট বন্ধুত্বের প্রমাণ দিল রাশিয়া। এবার ভারতের আকাশসীমা সুরক্ষিত করতে ও চিনের ক্রমবর্ধমান স্টেলথ ফাইটার ‘জে-২০’-র দাপট রুখতে মেগা অফার দিলেন ভ্লাদিমির পুতিন। জানা গেছে, ভারতকে পঞ্চম প্রজন্মের অত্যাধুনিক সুখোই সু-৫৭ (Su-57) স্টেলথ ফাইটারের দুটি পূর্ণ স্কোয়াড্রন অর্থাৎ প্রায় ৪০টি বিমান সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে মস্কো।
ভারতের জন্য কেন এটি ‘গোল্ডেন ডিল’?
রাশিয়ার এই অফারটি কেবল বিমান বিক্রির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মস্কো জানিয়েছে, ২০২৬-এর মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত হলে তারা নিম্নোক্ত সুবিধাগুলি দেবে:
-
পূর্ণ প্রযুক্তি হস্তান্তর (ToT): বিমানের স্পর্শকাতর সোর্স কোড অ্যাক্সেসসহ সম্পূর্ণ প্রযুক্তি ভারতকে দেওয়া হবে।
-
মেক ইন ইন্ডিয়া: হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর কারখানায় যৌথভাবে এই বিমান উৎপাদন করা যাবে।
-
দেশীয় অস্ত্র সংযোজন: সু-৫৭ বিমানে ভারতের গর্ব ‘ব্রহ্মোস’ এবং ‘অস্ত্র’ ক্ষেপণাস্ত্র সহজেই যুক্ত করা যাবে।
চিন ও পাকিস্তানের ঘুম ওড়াবে সু-৫৭!
বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) কাছে রাফালের মতো ৪.৫ জেনারেশন বিমান থাকলেও কোনও ‘স্টেলথ’ বা রাডারের চোখ এড়িয়ে চলা যুদ্ধবিমান নেই। রাশিয়ার এই পঞ্চম প্রজন্মের বিমানে থাকছে: ১. অদৃশ্য ক্ষমতা: উন্নত স্টেলথ প্রযুক্তির কারণে শত্রুপক্ষের রাডার একে সহজে ধরতে পারবে না। ২. সুপারক্রুজ ক্ষমতা: শব্দের চেয়েও বহুগুণ দ্রুত গতিতে হামলা চালাতে সক্ষম। ৩. ড্রোন নিয়ন্ত্রণ: এর দ্বি-আসনবিশিষ্ট ভ্যারিয়েন্টটি যুদ্ধক্ষেত্রে ‘ড্রোন সোয়ার্ম’ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
ভবিষ্যৎ যুদ্ধের ‘ব্রিজ ক্যাপাবিলিটি’
ভারতের নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের বিমান AMCA তৈরির কাজ চলছে, তবে তা পুরোপুরি তৈরি হতে ২০৩০-এর বেশি সময় লেগে যেতে পারে। রাজনৈতিক ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই সময় পর্যন্ত সু-৫৭ ভারতের আকাশরক্ষায় একটি শক্তিশালী ‘সেতু’ বা ইন্টারিম সলিউশন হিসেবে কাজ করবে।
চুক্তি চূড়ান্ত হলে ২০২৭-২৮ সালের মধ্যেই প্রথম দফার বিমানগুলি ভারতের মাটিতে নামতে পারে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আকাশসীমা কার্যত দুর্ভেদ্য হয়ে উঠবে বলেই মনে করছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।