মাস্টারস্ট্রোক না কি শেষ চেষ্টা? ট্রাম্পের গোপন বার্তা নিয়ে তেহরানে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির!

মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য কি এবার নির্ধারিত হতে চলেছে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায়? দীর্ঘ উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে জমে থাকা বরফ গলাতে এবার আসরে নামলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। বুধবার উচ্চপর্যায়ের আলোচনার জন্য তেহরানে পৌঁছেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক মহলের গুঞ্জন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিশেষ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা নিয়েই ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন মুনির।
ট্রাম্পের ‘মেসেঞ্জার’ হয়ে তেহরানে মুনির
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB) নিশ্চিত করেছে যে, আসিম মুনির এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলটি তেহরানে পৌঁছেছেন। তাঁদের মূল লক্ষ্য:
-
আলোচনার জমি তৈরি: আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠক আয়োজন করা।
-
সংঘাত নিরসন: ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধের পথ খুঁজে বের করা।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে ধোঁয়াশা: কী চাইছেন ট্রাম্প?
গত ২৮ মার্চ ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চললেও তা বাড়ানো নিয়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
-
মুনিরের আশা: পাকিস্তান সরকার এবং মধ্যস্থতাকারীরা দাবি করছেন, দুই দেশই ২২ এপ্রিলের পর যুদ্ধবিরতি বাড়াতে রাজি।
-
ট্রাম্পের হুঙ্কার: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, “যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই।” তাঁর এই মন্তব্য জল্পনা বাড়িয়েছে যে, ট্রাম্প হয়তো এবার সরাসরি একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে চাইছেন।
হরমুজ প্রণালী ও চিনের ভূমিকা
ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে ইরানের ওপর সামুদ্রিক অবরোধ আরোপ করে তাদের বাণিজ্য কোণঠাসা করেছেন, অন্যদিকে দাবি করেছেন যে তিনি হরমুজ প্রণালী চিরতরে বিশ্বের জন্য খুলে দিচ্ছেন। ট্রাম্পের দাবি:
“চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে তাঁরা আর ইরানকে অস্ত্র দেবেন না। আগামী দুই দিন চমৎকার হতে চলেছে!”
[Image: General Asim Munir arriving in Tehran with high-level officials]
ইসলামাবাদে কি সফল হবে দ্বিতীয় দফার বৈঠক?
প্রথম দফার আলোচনা ৮০ শতাংশ সফল হয়েও শেষ মুহূর্তে অমীমাংসিত থেকে গিয়েছিল। এবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের জোরালো চাপে এবং ট্রাম্পের ‘আগামী দুই দিন চমৎকার হবে’—এই বার্তার ওপর ভিত্তি করে নতুন আশা তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: আসিম মুনির কি পারবেন ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস এবং সরকারকে আমেরিকার শর্তে রাজি করাতে? নাকি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ আবারও যুদ্ধের কালো মেঘে ঢেকে যাবে?
আপনার কী মনে হয়? পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কি ট্রাম্প ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্ভব? কমেন্টে জানান আপনার মতামত।