ভোটের আগে রণংদেহী লালবাজার! ঝুলে থাকা সব গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকরের চরম নির্দেশ, শহরজুড়ে শুরু মেগা তল্লাশি

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিলোত্তমার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোমর বেঁধে নামল লালবাজার। শহরের বিভিন্ন থানায় দীর্ঘ দিন ধরে জমে থাকা বকেয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা (Arrest Warrants) দ্রুত কার্যকর করার কড়া নির্দেশ দিলেন নতুন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ। স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে— যাঁদের নামে আদালতের পরোয়ানা রয়েছে, তাঁদের হয় গারদে ভরতে হবে, আর না হলে কেন গ্রেফতার করা যাচ্ছে না, তার সবিস্তার কৈফিয়ত দিতে হবে লালবাজারে।
কেন এই জরুরি তলব?
পুলিশ সূত্রের খবর, শহরের বহু থানায় জামিন অযোগ্য ও জামিনযোগ্য প্রচুর পরোয়ানা ঝুলে রয়েছে। নির্বাচনের আগে প্রশাসন আশঙ্কা করছে:
-
পরোয়ানা থাকা অপরাধীরা পলাতক অবস্থায় নির্বাচনী অশান্তি পাকাতে পারে।
-
অনেক ক্ষেত্রে দুষ্কৃতীদের রাজনৈতিক অশান্তি বা অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করার সম্ভাবনা থাকে।
-
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনেই এই ‘ক্লিনআপ ড্রাইভ’ শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ।
হয় শ্রীঘর, নয় লিখিত কারণ!
লালবাজার থেকে প্রতিটি থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে— অবিলম্বে বকেয়া পরোয়ানার তালিকা তৈরি করে তল্লাশি অভিযান চালাতে হবে। যদি কোনও অভিযুক্তকে খুঁজে না পাওয়া যায়, তবে কেন তাকে গ্রেফতার করা গেল না, তার লিখিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে লালবাজারে। কোনোভাবেই এই কাজে গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে প্রশাসন।
পুলিশকর্মীদের জন্য কড়া ‘কোড অফ কন্ডাক্ট’
শুধু অপরাধী দমন নয়, খোদ পুলিশবাহিনীর অন্দরমহলেও শৃঙ্খলা ফেরাতে কড়া লালবাজার। সোমবারের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে:
-
সমাজমাধ্যম ব্যবহারে লাগাম: ডিউটি চলাকালীন বা পুলিশের পোশাকে কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য বা পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনও পোস্ট করা যাবে না।
-
১৫ দফা নির্দেশিকা: প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারের জারি করা ১৫ দফা আচরণবিধি মেনে চলতে হবে প্রতিটি পুলিশকর্মীকে।
-
পেশাদারিত্ব: নির্বাচনী আচরণবিধি চলাকালীন পুলিশকর্মীদের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।