মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন বেন স্টোকস! প্র্যাকটিস সেশনে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, ভেঙে চুরমার গালের হাড়।

ক্রিকেট বিশ্বকে কার্যত স্তব্ধ করে দিয়ে সামনে এল ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক বেন স্টোকস-এর এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে স্টোকস জানিয়েছেন, নেট প্র্যাকটিসের সময় এক মারাত্মক দুর্ঘটনায় তাঁর গালের হাড় (Cheekbone) ভেঙে যায়। পরিস্থিতি এতটাই জটিল ছিল যে, নিজেকে জীবিত দেখে তিনি বর্তমানে নিজেকে ‘ভাগ্যবান’ মনে করছেন।

ঠিক কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত দিনে?

ঘটনাটি ঘটেছিল গত ফেব্রুয়ারি মাসে। স্টোকস তাঁর ঘরোয়া কাউন্টি ক্লাব ডারহাম কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব-এ তরুণ খেলোয়াড়দের কোচিং দিচ্ছিলেন। সেই সময় নেটে ব্যাটিং অনুশীলনের সময় একটি বল সজোরে এসে সরাসরি তাঁর মুখে লাগে। আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে, তাঁর গালের হাড় ভেঙে যায় এবং তৎক্ষণাৎ তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।

“কয়েক ইঞ্চির ব্যবধানে বেঁচে গিয়েছি”

ভয়ংকর সেই স্মৃতির রোমন্থন করতে গিয়ে স্টোকস বলেন, “বলটি যদি মাত্র কয়েক ইঞ্চি এদিক-ওদিক লাগত, তবে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক হতে পারত। আমি সত্যিই ভাগ্যবান যে এখনও বেঁচে আছি।” তিনি আরও জানান যে, মুখের ভেতরের অংশের হাড় ঠিক করতে তাঁকে একটি বড়সড় অস্ত্রোপচারের (Surgery) মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

মাঠে ফেরার মরিয়া লড়াই

এই চোটের কারণে স্টোকসের প্রস্তুতির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় তিনি মাঠের বাইরে ছিলেন। তবে দমে যাওয়ার পাত্র তিনি নন। নিজের পরিকল্পনা বদলে ফেলে দ্রুত ফিট হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছেন তিনি।

  • আগামী মাসের পরিকল্পনা: জুনে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ শুরু হওয়ার আগে নিজেকে ফিট করতে তিনি আগামী মাসে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের দুটি ম্যাচে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

কোচ ম্যাককুলামের সাথে সম্পর্ক ও সমালোচনা

দলের কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম-এর সাথে স্টোকসের সম্পর্ক নিয়ে জলঘোলা হলেও, অধিনায়ক সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সব বিষয়ে একমত না হলেও দলের উন্নতির বিষয়ে তাঁরা দুজনেই এককাট্টা। অ্যাশেজ হারের পর ইংল্যান্ডের আগ্রাসী খেলার ধরন (Bazball) নিয়ে সমালোচনা হলেও, স্টোকস ও ম্যানেজমেন্ট তাঁদের রণনীতি বদলাতে নারাজ।

এখন ক্রিকেট প্রেমীদের নজর জুনের দিকে, যেখানে ঘরের মাঠে কিউয়ি বাহিনীর মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। ক্যাপ্টেন স্টোকস কি পারবেন সম্পূর্ণ ফিট হয়ে রুখে দাঁড়াতে? উত্তর দেবে সময়।