“আমার গাড়িও আটকাল কেন্দ্রীয় বাহিনী!” দমদম বিমানবন্দরের ঘটনায় রণংদেহী মমতা, তোলপাড় বাংলা!

লোকসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় বনাম রাজ্য সংঘাত এবার এক অন্য মাত্রা নিল। বুধবার উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের জনসভা থেকে রীতিমতো বিস্ফোরক দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, দমদম বিমানবন্দরে কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁর গাড়িও তল্লাশি করার চেষ্টা করেছে। একইসঙ্গে তাঁর পাল্টা তোপ— “কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা টাকা নিয়ে আসছেন, তাঁদের গাড়ি কেন তল্লাশি করা হচ্ছে না?”

বিমানবন্দরে ঠিক কী ঘটেছিল? এদিন মমতা জানান, তিনি যখন বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁর গাড়ির কাছে কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে আসে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজ দমদম বিমানবন্দরে আমার গাড়ির কাছেও এসেছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। আমি ভয় পাইনি, বরং বলেছি— চেক করো, চেক করো! আমি চাই চেক করো।” তবে তৃণমূল নেত্রীর মূল প্রশ্ন হলো বৈষম্য নিয়ে। তাঁর সাফ কথা, “তৃণমূলের সব নেতার গাড়িতে তল্লাশি হলে প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কনভয় কেন ছাড় পাবে? সিআরপিএফ-এর গাড়িতে কী আসে আমি সব জানি।”

বিস্ফোরক অভিযোগের তির দিল্লির দিকে: ইসলামপুরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তৃণমূল নেতাদের প্রচারে বাধা দিতে পরিকল্পিতভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ তোলেন:

  • বিজেপি কেন্দ্রীয় সরকারকে ব্যবহার করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।

  • তৃণমূল কর্মীদের গ্রেপ্তার করার জন্য ওপরতলা থেকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

  • আইন-কানুন অগ্রাহ্য করে ক্ষমতার আস্ফালন দেখানো হচ্ছে।

পাল্টা হুঁশিয়ারি: বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বলেন, “তৃণমূলের একজনকে গ্রেপ্তার করলে মনে রাখবেন আপনাদের হাজার জন গ্রেপ্তার হবে।” তাঁর লড়াই যে কেবল বিজেপির বিরুদ্ধে নয়, বরং অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে— তা এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।

নির্বাচনের মুখে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি তল্লাশির এই অভিযোগ যে রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় ঝোড়ো হাওয়া বইয়ে দেবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।