“ইলিশ মাছ আনুন, কাঁটা বেছে খাইয়ে দেব!” আমিষ বিতর্কে মমতার দলকে চ্যালেঞ্জ স্মৃতির!

“বিজেপি এলে বাংলায় মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে!”—তৃণমূলের এই দীর্ঘদিনের প্রচারকে এবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানালেন বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানি। ভোটমুখী বাংলায় আমিষ আহার নিয়ে যখন তরজা তুঙ্গে, তখন একেবারে বাঙালির প্রিয় ইলিশ মাছের প্রসঙ্গ টেনে পাল্টা কটাক্ষ ছুড়ে দিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট উত্তর, “আপনারা ইলিশ মাছ নিয়ে আসুন, আমি নিজে কাঁটা বেছে খাইয়ে দেব!”

মাছ নিয়ে তরজা কেন? তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার অভিযোগ করে আসছেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় খাদ্যাভ্যাস বদলে দেবে। গেরুয়া শিবির মাছ-মাংস বিরোধী বলেও দাবি করে শাসক দল। বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্মৃতি ইরানি এই অভিযোগকে স্রেফ হেসেই উড়িয়ে দেননি, বরং চ্যালেঞ্জের সুরে জানান যে মাছ খাওয়া নিয়ে বিজেপির কোনও আপত্তি নেই। উল্টে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকারের আমলে বাংলায় মাছের উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছে।

‘মাতৃশক্তি’ কার্ড ও নববর্ষের মেজাজ: এদিন বিজেপির পক্ষ থেকে ‘মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড’ প্রকাশ করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে স্মৃতি ইরানি বাংলার মানুষকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। তবে রান্নার গ্যাস বা মাছের দামের চেয়েও তিনি বেশি জোর দেন নারী নিরাপত্তা ও দুর্নীতির ইস্যুগুলোতে। তিনি বলেন, “মাছ খাওয়া বন্ধ হবে কি না, সেই অবাস্তব তর্কে না জড়িয়ে বাংলার মহিলাদের নিরাপত্তা আর তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত।”

রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা: বাঙালির পাতে মাছ থাকা বা না থাকা নিয়ে এই বিতর্ক নতুন নয়। তবে স্মৃতি ইরানির মতো হেভিওয়েট নেত্রী যেভাবে ‘ইলিশ মাছ বেছে খাইয়ে দেওয়া’র কথা বলেছেন, তাতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিজেপি এবার বাঙালির সাংস্কৃতিক এবং খাদ্যাভ্যাসের আবেগকেও হাতিয়ার করতে চাইছে। বিরোধীদের ‘আমিষ-বিরোধী’ তকমা ঘুচিয়ে সাধারণ মানুষের আরও কাছে পৌঁছানোই এখন পদ্ম শিবিরের লক্ষ্য।