বিশেষ: ২০২৬-এর ভোটে সবচেয়ে ধনী ১০ প্রার্থী কারা? একনজরে দেখেনিন তালিকা

নির্বাচন মানেই কেবল জনসভা আর স্লোগান নয়, নির্বাচন মানে শক্তির আস্ফালনও। আর সেই শক্তির অন্যতম উৎস হলো অর্থ। অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (ADR)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে উঠে এসেছে বাংলার রাজনীতির অন্দরমহলের এক চাঞ্চল্যকর ছবি। পৈতৃক সম্পত্তি, সফল ব্যবসা কিংবা দীর্ঘ পেশাদার জীবন—নানা উপায়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন এই সময়ের একাধিক বিধায়ক ও প্রার্থী।

তালিকার শীর্ষে কে?

সম্পত্তির নিরিখে সবাইকে টেক্কা দিয়েছেন জঙ্গিপুরের তৃণমূল বিধায়ক জাকির হোসেন। তাঁর ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ শুনলে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য।

  • মোট সম্পদ: ৬৭ কোটি টাকার বেশি।

  • অস্থাবর সম্পত্তি: ৪৯.৩ কোটি টাকা।

  • স্থাবর সম্পত্তি: ১৭.৯ কোটি টাকা।

কোটিপতিদের ক্লাবে আর কারা?

তালিকায় জাকির হোসেনের পরেই রয়েছেন কসবার বিধায়ক আহমেদ জাভেদ খান। তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৩২.৩ কোটি টাকা। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন জোড়াসাঁকোর বিবেক গুপ্ত, যাঁর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৩১.৯ কোটি টাকা

নিচে একনজরে দেখে নিন বাংলার আরও কিছু হেভিওয়েট কোটিপতি প্রার্থীর তালিকা:

প্রার্থীর নাম নির্বাচনী কেন্দ্র সম্পদের পরিমাণ (প্রায়)
মনোজ তিওয়ারি শিবপুর ২০.৩ কোটি টাকা
বায়রন বিশ্বাস সাগরদিঘি ২০.১ কোটি টাকা
রুদেন সাদা লেপচা কালিম্পঙ ১৮.২ কোটি টাকা
প্রদীপ মজুমদার দুর্গাপুর পূর্ব ১৮.১ কোটি টাকা
নন্দীতা চৌধুরি হাওড়া দক্ষিণ ১৫.৭ কোটি টাকা

কেন বাড়ছে ধনী প্রার্থীর সংখ্যা?

ADR-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে বিধায়কদের গড় সম্পত্তির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, বড় লড়াই লড়তে গেলে এখন আর্থিক সংগতির বিষয়টি দলগুলো বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। পেশাদার বা ব্যবসায়িক ক্ষেত্র থেকে রাজনীতিতে আসার প্রবণতাও এর অন্যতম কারণ।

আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় হতে চলেছে বিধানসভা নির্বাচন। ফল ঘোষণা ৪ মে। এই কোটিপতি প্রার্থীদের ভাগ্য শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ভোটেই নির্ধারিত হবে। এখন দেখার, এই সম্পদের পাহাড় শেষ পর্যন্ত তাঁদের জয়ের পথ কতটা সুগম করতে পারে।