“ক্ষমতায় এলে কোন মাংস খেতে দেবে না BJP?”-বার্তায় স্পষ্ট করলেন মিঠুন চক্রবর্তী

লোকসভা নির্বাচনের আবহে এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রীর হিন্দু পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন বিজেপি নেতা তথা মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী। মঙ্গলবার কাঁথির নির্বাচনী সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মাছ-মাংস’ সংক্রান্ত অভিযোগের পালটা দিলেন তিনি। তৃণমূল নেত্রী বারবার অভিযোগ করছেন যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে সাধারণ মানুষকে মাছ-মাংস খেতে দেওয়া হবে না। এই প্রসঙ্গে মিঠুন সাফ জানান, “বিজেপি শাসিত সব রাজ্যেই মাছ-মাংস খাওয়া যায়, এটা একেবারেই ভিত্তিহীন প্রচার।”

কোন মাংস নিয়ে বিতর্ক?

মুখ্যমন্ত্রীর নাম না করে মিঠুন চক্রবর্তী এদিন অভিযোগ করেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘুরিয়ে একটি নির্দিষ্ট মাংস খাওয়ার কথা বলছেন। মিঠুনের বক্তব্য:

“উনি বলতে চাইছেন ওরা (বিজেপি) এলে খেতে দেবে না, আর আমি এলে ভরপুর খাওয়াব। কিন্তু কোন মাংসের কথা উনি বলছেন? আমাদের হিন্দুদের কাছে যা পবিত্র, সেই মাংস খেতে বারণ করা হয়েছে। কখনও কখনও ভাবি উনি কি সত্যিই ব্রাহ্মণ ঘরের হিন্দু মহিলা?”

মহাগুরুর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। তিনি সরাসরি ইঙ্গিত করেছেন যে মুখ্যমন্ত্রী ভোটের লোভে হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করছেন।

‘বাংলাকে পশ্চিম বাংলাদেশ করার ছক’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করতে গিয়ে বাংলাদেশ সীমান্ত প্রসঙ্গও টেনে আনেন মিঠুন। তাঁর দাবি:

  • জমি দিচ্ছে না রাজ্য: বিএসএফ-এর জন্য বাংলাদেশ সীমান্তের ৪০০ কিমি রাস্তা বন্ধ করতে জমি প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চাইলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমি দিচ্ছেন না।

  • বিস্ফোরক অভিযোগ: মিঠুনের মতে, “উনি চান বাংলাদেশ থেকে লোক এসে এখানে ভোট দিক। তারপর পশ্চিমবঙ্গকে পশ্চিম বাংলাদেশ বানিয়ে দিক।”

কর্মীদের প্রতি মহাগুরুর কড়া বার্তা

ভোটের ময়দানে বিজেপি কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন মিঠুন। তিনি বলেন, “কারও সঙ্গে যেচে ঝগড়া নয়, কিন্তু যে যেমন ব্যবহার করবে, তেমন ব্যবহার ফিরিয়ে দিতে হবে।” পাশাপাশি মহিলাদের সুরক্ষার গ্যারান্টি দিয়ে তিনি সকলকে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

বিজেপি এই নির্বাচনের আগে যেভাবে হিন্দুত্ব এবং অনুপ্রবেশ ইস্যুকে হাতিয়ার করছে, মিঠুন চক্রবর্তীর আজকের এই ভাষণ তাতে যে আরও ঘি ঢালল, তা বলাই বাহুল্য।