বিহারের কুর্সিতে বড় ধামাকা! নীতীশ যুগের অবসান ঘটিয়ে প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস গড়লেন সম্রাট!

বিহারের রাজনীতিতে সূচিত হলো এক নতুন অধ্যায়। দীর্ঘ দুই দশকের ‘নীতীশ শাসনের’ অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের ২৪তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আজ শপথ নিলেন বিজেপি নেতা সম্রাট চৌধুরী। বুধবার সকালে পাটনার লোক ভবনে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে তিনি এই পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বিহারের ইতিহাসে এই প্রথমবার ভারতীয় জনতা পার্টির কোনো নেতা মুখ্যমন্ত্রীর আসনে অধিষ্ঠিত হলেন।

বিদায় নীতীশ, স্বাগত সম্রাট:
সোমবার মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেন নীতীশ কুমার। তবে রাজনীতি থেকে তিনি বিদায় নিচ্ছেন না। মুখ্যমন্ত্রীত্বের দায়িত্ব সম্রাট চৌধুরীর হাতে সঁপে দিয়ে তিনি নিজে পাড়ি দিচ্ছেন রাজ্যসভায়। রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে নীতীশ কুমার এক অনন্য রেকর্ড গড়লেন— তিনি বিহারের ষষ্ঠ নেতা যিনি বিধানসভা, বিধান পরিষদ, লোকসভা এবং রাজ্যসভা— এই চারটি কক্ষেরই সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন।

নতুন মন্ত্রিসভার সমীকরণ:
সম্রাট চৌধুরীর পাশাপাশি জেডিইউ (JD-U) কোটা থেকে দুই উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন অভিজ্ঞ নেতা বিজয় চৌধুরী এবং বিজেন্দ্র যাদব। এই রদবদল বিহারের জোট রাজনীতিতে বিজেপির ক্রমবর্ধমান আধিপত্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কে এই সম্রাট চৌধুরী?
সম্রাট চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবন বেশ বৈচিত্র্যময়। আরজেডি (RJD) থেকে হাতেখড়ি হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি হাম (HAM) এবং জেডিইউ হয়ে বিজেপিতে যোগ দেন। কাকতালীয়ভাবে, তাঁর মন্ত্রিসভার দুই সঙ্গী বিজয় চৌধুরী (কংগ্রেস থেকে আগত) এবং বিজেন্দ্র যাদবের (জনতা দল থেকে আগত) রাজনৈতিক সফরও শুরু হয়েছিল ভিন্ন দল থেকে। সম্রাট চৌধুরীর এই উত্থান মূলত তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং বিহারের পিছিয়ে পড়া বর্গের ওপর শক্ত প্রভাবের ফল।

চাঁদের হাট শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে:
আজকের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে পাটনায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা, শিবরাজ সিং চৌহান, নীতিন নবীন, জিতন রাম মাঞ্জি এবং লল্লন সিং-এর মতো হেভিওয়েট নেতারা।

শপথ নেওয়ার পরেই নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী বিহারের উন্নয়ন এবং সুশাসনের ওপর জোর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬-এর এই পটপরিবর্তন আগামী জাতীয় রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলবে।