মোথাবাড়ি কাণ্ডে সরাসরি ‘মমতা যোগ’-এর দাবি দিলীপের! মালদায় বিচারক নিগ্রহে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি

মালদার মোথাবাড়িতে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের ওপর হামলার ঘটনায় এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুললেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবার খড়গপুরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, এই নক্কারজনক ঘটনার পেছনে তৃণমূলের গভীর ষড়যন্ত্র এবং ইন্ধন রয়েছে।
কী ঘটেছিল মোথাবাড়িতে?
ঘটনার সূত্রপাত সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে।
-
সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত সাতজন বিচারক (যাঁদের মধ্যে তিনজন মহিলা) কালিয়াচক-২ ব্লক এলাকায় কাজে গিয়েছিলেন।
-
সেখানে একদল উত্তেজিত জনতা তাঁদের ঘিরে ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখে এবং তাঁদের গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।
-
শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর হস্তক্ষেপে ওই বিচারকদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
দিলীপ ঘোষের বিস্ফোরক অভিযোগ
দিলীপ ঘোষের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই এই এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে আসছিলেন। তাঁর বক্তব্য:
“অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাম কাটা নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে টার্গেট করেছেন মমতা। ঠিক এই আবহেই মালদায় এমন ঘটনা ঘটল। তৃণমূলের ইন্ধন ছাড়া এত মানুষকে খেপিয়ে তুলে বিচারকদের আটকে রাখা সম্ভব ছিল না।”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে একজন ব্যক্তি এত মানুষকে উস্কানি দিয়ে হিংসার জন্ম দিতে পারে? তাঁর মতে, অভিযুক্তদের প্রত্যেকের সঙ্গে তৃণমূলের যোগ রয়েছে এবং তাঁরা শাসকদলের কাছ থেকে সুবিধাভোগী।
NIA তদন্ত ও স্বচ্ছ নির্বাচনের দাবি
এই ঘটনার গুরুত্ব বুঝে সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই এনআইএ (NIA)-কে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে। দিলীপ ঘোষের হুঁশিয়ারি, “এই মুহূর্তে যদি অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করা হয়, তবে মালদা ও মুর্শিদাবাদের মতো স্পর্শকাতর জেলাগুলিতে স্বচ্ছভাবে নির্বাচন করা সম্ভব হবে না।”
এক নজরে মোথাবাড়ি ইস্যু:
| বিষয় | বিবরণ |
| ঘটনার স্থান | মোথাবাড়ি, কালিয়াচক-২ ব্লক (মালদা) |
| আক্রান্ত কারা | সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত ৭ জন বিচারক (৩ জন মহিলা বিচারক-সহ) |
| তদন্তকারী সংস্থা | এনআইএ (NIA) |
| দিলীপের মূল অভিযোগ | অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করতে তৃণমূলের চক্রান্ত |
| বর্তমান পরিস্থিতি | এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন, ব্যাপক রাজনৈতিক চাপানউতোর |
ভোটের ঠিক আগে বিচারকদের ওপর এই হামলা জাতীয় স্তরে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে এখন উত্তাল রাজ্য রাজনীতি।