রাজধানীতে রাজনৈতিক ভূমিকম্প! মোদী সরকারকে রুখতে একজোট বিরোধীরা, আগামীকাল খাড়গের বাসভবনে জরুরি বৈঠক!

ভারতের রাজনীতিতে ফের সংঘাতের আবহ। মহিলা সংরক্ষণ, সীমানা পুনর্নির্ধারণ (Delimitation) এবং সংসদে আসন সংখ্যা বাড়ানোর ইস্যুকে কেন্দ্র করে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে রণকৌশল সাজাতে কোমর বেঁধে নামছে বিরোধী দলগুলি। আগামীকাল, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ দুপুর ৩টেয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে বসছে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের হাই-ভোল্টেজ বৈঠক।
কেন ক্ষুব্ধ বিরোধীরা?
কেন্দ্রীয় সরকার ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিলের মধ্যে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচনের ঠিক মুখে তড়িঘড়ি এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কেবল তামিলনাড়ু ও বাংলার মহিলা ভোট পাওয়ার আশায়। ১৪ এপ্রিল বিলের খসড়া হাতে পাওয়ায় আলোচনা করার পর্যাপ্ত সময় নেই বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাহুল গান্ধী-সহ শীর্ষ নেতারা।
আসন বৃদ্ধির ফর্মুলায় ‘বিপদ’ দেখছে দক্ষিণ ভারত!
সরকার প্রস্তাবিত সমানুপাতিক আসন বৃদ্ধির ফর্মুলা নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছে বিরোধী জোট। তাদের দাবি, এই ফর্মুলা কার্যকর হলে উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক বৈষম্য চরমে পৌঁছাবে।
-
উদাহরণ: বর্তমানে তেলেঙ্গানা ও মধ্যপ্রদেশের আসনের ব্যবধান ১২টি, নতুন নিয়মে তা বেড়ে হবে ১৮।
-
তামিলনাড়ু ও উত্তরপ্রদেশের বর্তমান ব্যবধান ৪০, যা ফর্মুলা অনুযায়ী বেড়ে দাঁড়াবে ৬০-এ! বিরোধীদের যুক্তি, এই বৈষম্য দেশের অখণ্ডতার জন্য বড় হুমকি।
ওবিসি অধিকার ও জাতিগত জনগণনা
বিপক্ষ শিবিরের দাবি, সরকার ২০১১-এর তথ্য ব্যবহার করে ওবিসি মহিলাদের অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। তাদের প্রশ্ন, কেন ২০২৭-এর জাতিগত জনগণনার তথ্যকে ভিত্তি করা হচ্ছে না? উল্লেখ্য, ২০২৩-এ মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস হলেও জনগণনা ও সীমানা নির্ধারণের দোহাই দিয়ে তা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। ৩০ মাস পর কেন হঠাৎ আইনের পরিবর্তন চাইছে মোদী সরকার, সেই প্রশ্নই তুলছে ইন্ডিয়া ব্লক।
সংখ্যা তত্ত্বের জটিলতা: সরকার কি পারবে?
সংবিধান সংশোধনের জন্য সরকারের প্রয়োজন দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৩৬৪টি ভোট)। বর্তমানে সমীকরণটি এমন:
-
শাসক পক্ষ: ২৯৩
-
বিরোধী পক্ষ: ২৪০
-
অন্যান্য: ১১ বিপক্ষ শিবিরে বড়সড় ভাঙন ছাড়া এই বিল পাস করানো কার্যত অসম্ভব। এদিকে, বাংলায় রাহুল গান্ধীর সভার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিএমসি কালকের বৈঠকে যোগ দেবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। তবে কংগ্রেস সূত্রের দাবি, তৃণমূল বৈঠকে না এলেও সরকারের এই ‘একতরফা’ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই থাকছে।