ভোটের দিন ‘রংবাজি’ রুখতে সশরীরে অধীর! জারি করলেন ৪টি হেল্পলাইন নম্বর

গত লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের ক্ষত এখনও টাটকা। এবার বিধানসভা ভোটের ময়দানে কোনো ফাঁক রাখতে চাইছেন না কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা অধীর চৌধুরী। ভোট শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর আস্থা থাকলেও, রাজ্য পুলিশের একাংশ ও শাসকদলের ওপর বিন্দুমাত্র ভরসা নেই তাঁর। তাই ভোটের দিন রিগিং এবং ভোটারদের বাধা দেওয়া রুখতে এবার নিজেই আসরে নামলেন অধীর।
সরাসরি অধীরকে ফোন: ভোটের দিন দুষ্কৃতীদের ভয় প্রদর্শন বা বুথে আসতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নিতে ৪টি হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছেন তিনি। অধীর চৌধুরীর সাফ বার্তা, “বহরমপুরের কোনো বুথে যদি রংবাজি হয় বা মানুষকে ভোট দানে বাধা দেওয়া হয়, তবে সঙ্গে সঙ্গে এই নম্বরে জানান। আমি নিজে ব্যবস্থা নেব।”
এক নজরে অধীরের হেল্পলাইন নম্বরগুলি:
9159830445
9017280445
9293350445
8293380445
কংগ্রেস কর্মীরাই পৌঁছে দেবে বুথে: অধীর চৌধুরী জানান, শুধু অভিযোগ শোনাই নয়, কোনো ভোটার যদি সন্ত্রাসের কারণে বাড়ি থেকে বেরোতে ভয় পান, তবে খবর দিলে কংগ্রেস কর্মীরাই তাঁদের সসম্মানে এবং নির্বিঘ্নে বুথে পৌঁছে দেবেন। তাঁর মতে, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আসুক বা অন্য কেউ, নিচুতলার পুলিশকর্মীরা শাসকদলের কথামতোই চলবে, তাই এই বিকল্প ব্যবস্থা।
তৃণমূলের পাল্টা তোপ: অধীরের এই উদ্যোগকে আমল দিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। শাসকদলের দাবি, পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই আগেভাগে এসব ‘চক্রান্ত’ ও নাটক শুরু করেছেন অধীর চৌধুরী। তাঁদের দাবি, বহরমপুরে ভোট সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবেই হবে এবং মানুষ তৃণমূলের উন্নয়ন দেখেই ভোট দেবে।
ভোটের দিন বহরমপুরের রাস্তায় অধীর চৌধুরীর এই ‘হেল্পলাইন’ কতটা ম্যাজিক দেখাবে, না কি এটি স্রেফ রাজনৈতিক রণকৌশল— এখন সেটাই দেখার।