২৮ দিনের রহস্যময় নীরবতা ভাঙলেন রূপালী চাকানকার! বোনকে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পরই বিস্ফোরক এনসিপি নেত্রী

নাসিকের বহুল আলোচিত অশোক খারাট মামলা ও এসআইটি (SIT) তদন্তের মাঝেই দীর্ঘ ২৮ দিনের স্তব্ধতা ভাঙলেন জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির (NCP) দাপুটে নেত্রী রূপালী চাকানকার। তাঁর বোন প্রতিভা চাকানকারকে বিশেষ তদন্তকারী দল টানা ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মাথায় ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা থেকে দূরে থাকার কারণ হিসেবে রূপালী যা দাবি করেছেন, তা নিয়ে এখন তোলপাড় মহারাষ্ট্রের রাজনীতি।
কেন ২৮ দিন চুপ ছিলেন রূপালী?
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা একতরফা প্রচারের বিষয়ে মুখ খোলেননি রূপালী। ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আমার নীরব থাকার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল তদন্তকারী সংস্থা এবং এসআইটি-কে কোনো প্রকার মানসিক চাপ ছাড়াই নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে দেওয়া।” মিডিয়া ট্রায়ালকে নিশানা করে তিনি আরও যোগ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে যা রটেছে তা আদতে “মিষ্টি গল্প এবং মজাদার গুজবের” সংমিশ্রণ ছাড়া আর কিছুই নয়।
‘বেনামী চিঠি’ ও বিড সংযোগ: তুখোড় আক্রমণ
তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে রূপালী সরাসরি পুলিশ প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে তোপ দেগেছেন। বিড থেকে আসা একটি তথাকথিত বেনামী চিঠি নিয়ে যে শোরগোল শুরু হয়েছে, তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। নেত্রীর দাবি, নাম-ঠিকানাহীন একটি অখ্যাত চিঠি কীভাবে তদন্তের আগেই মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ল? বিডের এসপি নবনীত কৌত যখন স্পষ্ট জানিয়েছেন যে বেনামী চিঠির কোনো আইনি ভিত্তি নেই, তখন কেন একে কেন্দ্র করে তাঁর পরিবারকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলছে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
আর্থিক কেলেঙ্কারি ও পরিবারের ভূমিকা
প্রতিভা চাকানকারের নামে ভুয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং কোটি কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ কঠোরভাবে অস্বীকার করেছেন রূপালী। তিনি সাফ জানিয়েছেন:
-
অশোক খারাট মামলার কোনো আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তাঁর পরিবার যুক্ত নয়।
-
জমি কেনাবেচা বা অন্য কোনো বেআইনি ব্যবসায় তাঁর কোনো অংশীদারিত্ব নেই।
-
বেনামী চিঠির নেপথ্যে থাকা আসল ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন তিনি।
আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি
বর্তমানে ইডি (ED) এবং এসআইটি (SIT) যৌথভাবে অশোক খারাটের অপরাধের জাল ছিঁড়তে মরিয়া। ঠিক সেই সময়েই রূপালীর এই আক্রমণাত্মক পোস্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তিনি মাঠ ছাড়তে নারাজ। তাঁর কথায়, “সত্যের জয় হবেই এবং আমার পরিবার নির্দোষ প্রমাণিত হবে।”
তদন্তের জল শেষ পর্যন্ত কতদূর গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।