মমতা-মোদীকে এক সারিতে বসালেন ওয়াইসী! মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়ে কেন বললেন “আমাদের রক্ত কি রক্ত নয়?”

২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে আবহাওয়াটা কেবল গরম নয়, রীতিমতো অগ্নিগর্ভ। আর সেই আগুনে ঘি ঢাললেন আসাদুদ্দিন ওয়াইসী। মুর্শিদাবাদ থেকে উত্তর দিনাজপুর—তাঁর প্রতিটি জনসভা এখন জনসমুদ্র। স্রেফ ভোট লড়তে নয়, বাংলার মুসলিম সমাজকে একটি ‘স্বাধীন রাজনৈতিক শক্তি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে মরিয়া হায়দরাবাদের এই নেতা। ওয়াইসীর এই উত্থান তৃণমূলের ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ দুর্গ আর বিজেপির ‘জাতীয়তাবাদী’ দেওয়াল—উভয়কেই নাড়িয়ে দিয়েছে।
“আমরা কি অনুপ্রবেশকারী?”— দিদি ও মোদীকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ
এতদিন বাংলার রাজনীতি ঘুরপাক খেত ‘বহিরাগত’ বনাম ‘ভূমিপুত্র’ লড়াইয়ে। কিন্তু ওয়াইসী এসে সেই চেনা ছকটাই বদলে দিলেন। মমতাকে ‘দিদি’ আর মোদীকে ‘পিএম’ সম্বোধন করে তাঁর সরাসরি প্রশ্ন:
“মমতা দিদি আমাদের বহিরাগত বলেন, আর মোদীজি বলেন অনুপ্রবেশকারী। আমি দু’জনকেই জিজ্ঞাসা করতে চাই, এই মাটিতে কি আমাদের রক্ত নেই? ভয় দেখিয়ে আমাদের অধিকার থেকে কেউ বঞ্চিত করতে পারবে না।”
মমতা ও মোদী কি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ?
ওয়াইসীর নিশানায় এবার সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল মুসলিমদের স্রেফ ‘ভোটব্যাঙ্ক’ হিসেবে ব্যবহার করেছে। সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, “মমতা দিদি মুসলিমদের টুপি আর নামাজ পছন্দ করেন, কিন্তু তাদের সন্তানদের চাকরি বা শিক্ষা দিতে চান না।” তাঁর দাবি, বিজেপি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে আর তৃণমূল সেই ভয়কে পুঁজি করে ভোট নিচ্ছে—মাঝখানে উন্নয়ন থমকে।
ভোটের অঙ্ক: বিজেপির কি লাভ?
রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চুলচেরা বিশ্লেষণ। মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং উত্তর দিনাজপুরে যেখানে সংখ্যালঘু ভোট নির্ণায়ক, সেখানে ওয়াইসীর এআইএমআইএম (AIMIM) যদি মাত্র ৩-৪ শতাংশ ভোটও কাটতে পারে, তবে কপাল পুড়তে পারে তৃণমূলের। এর সরাসরি সুবিধা চলে যাবে গেরুয়া শিবিরের ঝুলিতে। যদিও ওয়াইসী একে ‘ভোট কাটার’ রাজনীতি মানতে নারাজ, তাঁর কাছে এটা ‘অস্তিত্ব রক্ষার’ লড়াই।
২০২৬-এর ফলাফল ও ত্রিমুখী লড়াই
হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে জোট ভাঙার পর পথ কঠিন হলেও, ওয়াইসীর সভায় ভিড় দেখে কপালে ভাঁজ পড়েছে শাসকদলের। ৪ঠা মে ফলাফল ঘোষণা হলেই বোঝা যাবে ওয়াইসীর এই ‘স্বাধীন পরিচয়’-এর রাজনীতি বাংলার মসনদের সমীকরণ কতটা বদলে দিল। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত—বাংলার লড়াই এখন আর শুধু দুই মেরুর নয়, তা বহুকোণীয় রূপ নিয়েছে।