ট্রাম্পের হুঙ্কারে কাঁপছে বিশ্ববাজার! ইরানের তেল রপ্তানি রুখতে কঠোর পদক্ষেপ, বিপাকে মধ্যপ্রাচ্য

ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের শীতল যুদ্ধ এবার এক ভয়াবহ মোড় নিতে শুরু করেছে। সম্প্রতি ইসলামাবাদে আয়োজিত শান্তি আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় সংঘাতের মেঘ আরও ঘনীভূত হয়েছে। এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ আরোপের সতর্কতা জারি করেছেন। যদি এই অবরোধ কার্যকর হয়, তবে ইরান প্রতিদিন গড়ে ৪৩৫ মিলিয়ন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪,০৮১ কোটি টাকার বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার থেকেই এই কড়াকড়ি শুরু হওয়ার কথা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অবরোধের ফলে তেল, সার এবং খাদ্যপণ্যের বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে, যার জেরে বিশ্ববাজারে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা প্রবল। তবে ইরান এই ধাক্কা সামলাতে তাদের ‘জাস্ক টার্মিনাল’ ব্যবহার করে বিকল্প পথে তেল রপ্তানির চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি কেপলারের তথ্য বলছে, ইরানের হাতে প্রায় ১৫৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় মজুত রয়েছে, যা স্বল্পমেয়াদে ক্ষতি কিছুটা কমাতে পারে। মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের প্রাক্তন কর্মকর্তা মিয়াদ মালেকি জানিয়েছেন, ক্ষতির ২৭৬ মিলিয়ন ডলারই আসবে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানি বন্ধ হওয়া থেকে।

ইসলামাবাদে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার নেপথ্যে একটি ‘কঠিন শর্ত’ কাজ করেছে বলে জানা গিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, ইরানকে অন্তত ২০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত রাখতে হবে এবং মজুত ইউরেনিয়াম দেশ থেকে সরিয়ে নিতে হবে। পাল্টা জবাবে ইরান মাত্র ৫ বছরের সময়সীমা এবং আন্তর্জাতিক তদারকিতে ধীরে ধীরে ইউরেনিয়াম কমানোর প্রস্তাব দেয়। এই মতপার্থক্যই আলোচনার পথ বন্ধ করে দিয়েছে। তবে এরই মাঝে ইয়ান ব্রেমারের মতো বিশ্লেষকরা ১২.৫ বছরের একটি সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত দিলেও, হরমুজ প্রণালীর বর্তমান উত্তেজনা বিশ্ব রাজনীতিকে এক অস্থির পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।