“মুসলিম ভোট ব্যাঙ্কের ভয়েই চুপ মমতা!” বাঁকুড়ায় দাঁড়িয়ে যোগীর ‘গর্জন’, বাংলাদেশে হিন্দু খুনের ইস্যুতে তুলোধুনো তৃণমূলকে

২০২৬-এর নির্বাচনী রণক্ষেত্রে এবার নামল সবথেকে ভারী অস্ত্র। বাঁকুড়ার মাটি থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বাংলাদেশে এক দলিত হিন্দু যুবককে নৃশংসভাবে খুনের প্রসঙ্গ টেনে এনে যোগী দাবি করেন, ভোটব্যাঙ্ক হারানোর ভয়েই টু শব্দটি করছেন না পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।
“মমতা দিদি ভয় পাচ্ছেন”: যোগীর তোপ
বাঁকুড়ার বিশাল জনসভায় দাঁড়িয়ে যোগী আদিত্যনাথ সরাসরি ধর্মীয় মেরুকরণ এবং তোষণের রাজনীতির অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দু ভাইদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে, দলিত যুবককে খুন করা হচ্ছে— গোটা দেশ প্রতিবাদ জানালেও মমতা দিদি নীরব। কেন? কারণ তিনি ভয় পাচ্ছেন। তিনি ভয় পাচ্ছেন যদি তিনি এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তবে তাঁর ‘মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক’ হাতছাড়া হয়ে যাবে।”
একই বন্ধনীতে বাম-কংগ্রেস ও তৃণমূল
রাজ্য রাজনীতিতে বাম ও কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের সংঘাত থাকলেও, যোগী কিন্তু তিন দলকেই একই গোত্রে ফেলেছেন। তাঁর দাবি, “পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস, বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল হাত মিলিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছে। এরা রাজ্যের সামাজিক কাঠামো ভেঙে দিচ্ছে।” তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে দুর্গাপুজো বা নবরাত্রির মতো বড় উৎসব এলেই পরিকল্পিতভাবে অশান্তি পাকানো হয়।
বাংলাকে পুরনো গৌরবে ফেরানোর ডাক
যোগী আদিত্যনাথ কেবল আক্রমণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, তিনি বাংলার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের ডাক দিয়েছেন। জনতাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “এখনই সময় রুখে দাঁড়ানোর। বাংলার মহান ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে এই অশুভ রাজনীতির হাত থেকে বাঁচাতে হবে। বাংলাকে তার পুরনো মহিমায় ফিরিয়ে আনতে আমাদের একজোট হতে হবে।”
নির্বাচনের মুখে যোগীর এই ‘হাইভোল্টেজ’ ভাষণ যে বাংলার রাজনৈতিক উত্তাপ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য। তৃণমূলের তরফে এখনও এই মন্তব্যের কোনো পালটা প্রতিক্রিয়া না এলেও, রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোরদার তরজা।