ভোটের আগেই কি ডিএ-র সুখবর? নবান্নে তৎপরতা তুঙ্গে, ১৩ এপ্রিলের মধ্যে চাওয়া হলো জরুরি রিপোর্ট!

পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) দেওয়া নিয়ে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে নবান্নে। সূত্রের খবর, নির্বাচনের আগেই বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিতে কিছুটা ‘তৎপর’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তবে এই তৎপরতাকে স্রেফ ‘সময় নষ্ট’‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করছে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলি।

নবান্নের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ: অর্থ দফতর সূত্রের খবর, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরের কাছে কর্মচারীদের তথ্যের ভিত্তিতে SOP (Standard Operating Procedure) চাওয়া হয়েছে।

  • ডেডলাইন: আগামী ১৩ এপ্রিলের মধ্যে সব দফতরকে এই SOP জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছে অর্থ দফতর।

  • উদ্দেশ্য: নির্বাচনের আগে কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে ডিএ-র টাকা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করা।

সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পালটা তোপ: সরকারের এই পদক্ষেপকে মোটেও ভালো চোখে দেখছে না সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’। সংগঠনের রাজ্য কমিটির সদস্য চন্দন চট্টোপাধ্যায় বিস্ফোরক কিছু অভিযোগ তুলেছেন:

  • তথ্য কেন প্রয়োজন? চন্দন বাবুর প্রশ্ন, প্রতি মাসে যখন নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বেতন হয়, তখন নতুন করে কেন SOP চাওয়া হচ্ছে? এটি স্রেফ সময় নষ্ট করার কৌশল।

  • কালীঘাট অভিযানের প্রভাব: আন্দোলনের চাপে পড়েই সরকার এখন এই নাটক করছে বলে দাবি তাঁর। নবান্নের এই পদক্ষেপকে তিনি সরকারের ‘ভয়’ হিসেবেই দেখছেন।

  • শিক্ষকদের অবমাননা: গ্র্যান্ট-ইন-এড পাওয়া শিক্ষক ও কর্মচারীদের সরকার কিছুই বোঝে না বলে মনে করছে— এমন অভিযোগ তুলেও আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। সরকারি কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে ডিএ নিয়ে যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রয়েছে, তা ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সেই ক্ষোভ প্রশমিত করতেই কি এই শেষ মুহূর্তের SOP তলব? না কি সত্যিই দ্রুত ডিএ পাবেন কর্মীরা? সব নজর এখন ১৩ এপ্রিলের দিকে।

এডিটরস নোট: ডিএ ইস্যুটি এখন আর শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং সম্পূর্ণ রাজনৈতিক লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। নবান্নের চিঠি আর সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের ‘কালীঘাট অভিযান’—এই দুইয়ের যাঁতাকলে সাধারণ সরকারি কর্মচারীরা শেষ পর্যন্ত ডিএ পাবেন কি না, সেটাই এখন দেখার।