মমতার গড়ে শুভেন্দু! ২০১৪-র ‘মোদী মডেল’ কি এবার ভবানীপুরে? বড় চাল দিল বিজেপি

বঙ্গ রাজনীতির স্নায়ুযুদ্ধ এবার এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেল। নিজের গড় নন্দীগ্রামের পাশাপাশি খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরেও এবার বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। এই বড় ঘোষণায় যেমন কর্মীদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে, তেমনই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর পিছনে রয়েছে ২০১৪ সালের সেই ঐতিহাসিক ‘মোদী মডেল’।

২০১৪-র বারাণসী বনাম ২০২৬-এর ভবানীপুর: ঠিক ১২ বছর আগে নরেন্দ্র মোদী গুজরাটের নিরাপদ আসন ভদোদরার পাশাপাশি বারাণসী থেকে দাঁড়িয়েছিলেন। লক্ষ্য ছিল শুধু জয় নয়, বরং গোটা উত্তরপ্রদেশ ও গো-বলয়ে ঝোড়ো হাওয়া তোলা।

  • রণকৌশল: শুভেন্দুকে ভবানীপুরে দাঁড় করিয়ে কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গে দলের ঝিমিয়ে পড়া সংগঠনকে চাঙ্গা করতে চাইছে বিজেপি।

  • স্নায়ুর চাপ: মুখ্যমন্ত্রীর নিজের কেন্দ্রে তাঁকে ব্যস্ত রাখা এবং বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বকে চাপে ফেলা—এই কৌশলই এখন বিজেপির তুরুপের তাস।

চাপে কি ঘাসফুল শিবির? ভবানীপুর কেন্দ্রে SIR-এর পর বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে হয়েছে— “এক ভোট হলেও ভবানীপুরে জিতব।” রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এই আত্মরক্ষামূলক সুর আদতে শুভেন্দুর প্রার্থী হওয়ার প্রভাবেই তৈরি হয়েছে।

কেন রাহুল গান্ধী মডেল নয়? কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও আমেঠি ও ওয়ানাড় থেকে লড়েছিলেন, কিন্তু তিনি সফল হননি। বিশ্লেষকদের মতে, রাহুলের লড়াই ছিল আসন বাঁচানোর তাগিদে, কিন্তু শুভেন্দুর এই ‘ডাবল সিট’ লড়াই আদতে তৃণমূলের দুর্গে আঘাত করে গোটা রাজ্যে হাওয়া ঘোরানোর জন্য।

এডিটরস নোট: নন্দীগ্রামে এর আগে মমতাকে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু। এবার লড়াই খোদ ভবানীপুরে। কলকাতার হারানো জমি ফিরে পেতে এবং তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে ধস নামাতে শুভেন্দুর এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ কতটা সফল হয়, তা মে মাসেই পরিষ্কার হবে।