‘বাঙালিদের মাইনরিটি হতে দেব না’! কাটোয়া থেকে অনুপ্রবেশকারীদের চরম হুঁশিয়ারি মোদীর, পাল্টা তোপ মমতার

বঙ্গভোটের প্রথম দফার ঠিক আগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কাটোয়ার মাটি। শনিবার কাটোয়ার জনসভা থেকে ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যুকে হাতিয়ার করে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর সাফ ঘোষণা— “পশ্চিমবঙ্গে বাঙালিদের মাইনরিটি (সংখ্যালঘু) হতে দেব না।”
মোদীর হুঁশিয়ারি ও ‘দেশত্যাগ’ আল্টিমেটাম: প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গকে অনুপ্রবেশের সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তি দিতে চায়। তাঁর আক্রমণের মূল পয়েন্টগুলো হলো:
-
জিনিসপত্র বেঁধে নিন: অনুপ্রবেশকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে মোদী বলেন, “আপনাদের দিন শেষ, এবার যাওয়ার জন্য তৈরি হন।”
-
নকল কাগজের কারবার: যারা জাল নথি বানিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের সরকারি সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
-
অস্তিত্বের লড়াই: মোদীর দাবি, অনুপ্রবেশের ফলে আসল ভূমিপুত্র বাঙালিদের অস্তিত্ব বিপন্ন হচ্ছে।
মমতার পাল্টা ‘ভোটে জেতা’র প্রশ্ন: প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণের পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেননি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি মোদী ও শাহের পদত্যাগ দাবি করে তিনি বলেন:
-
৯০ লক্ষ নাম বাদ: SIR-এর মাধ্যমে ৯ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন মমতা।
-
কাদের ভোটে জিতলেন মোদী? মমতার প্রশ্ন, “সবাই যদি অনুপ্রবেশকারী হয়, তবে এই লিস্টেই তো ভোট দিয়ে আপনাকে প্রধানমন্ত্রী করেছেন মানুষ। তবে কেন আপনি আর অমিত শাহ পদত্যাগ করবেন না?”
-
হামলার অভিযোগ: বাংলায় ভোটে জেতা অসম্ভব বুঝেই বিজেপি মানুষের ওপর হামলা করছে বলে দাবি করেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
অমিত শাহের সুর: একই সুর শোনা গেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের গলাতেও। ডেবরার সভা থেকে তিনি দাবি করেন, “মমতা দিদি অনুপ্রবেশকারীদের রাখতে চান, কিন্তু বিজেপি এক এক জনকে চিহ্নিত করে বাংলা থেকে তাড়াবে।” তাঁর মতে, অনুপ্রবেশকারীরা বাংলার গরিব মানুষের রোজগার ছিনিয়ে নিচ্ছে।
এডিটরস নোট: প্রথম দফার ভোটের আগে ‘অনুপ্রবেশ’ এবং ‘বাঙালি মাইনরিটি’ ইস্যু যে মেরুকরণের রাজনীতিকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেল, তা স্পষ্ট। মোদীর এই অস্তিত্ব রক্ষার ডাক বনাম মমতার ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই— ব্যালট বক্সে কার পাল্লা ভারী হয়, এখন সেটাই দেখার।