‘নারী সুরক্ষা’ ইস্যুতে রণক্ষেত্র বাংলা! মোদী-শাহের নিশানায় আর জি কর-সন্দেশখালি, পাল্টায় উন্নাও মনে করালেন মমতা

বঙ্গভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ‘নারী নিরাপত্তা’। শনিবারের সুপার-স্যাটারডে-তে মোদী ও শাহের ম্যারাথন সভা থেকে তৃণমূল সরকারকে আক্রমণের মূল অস্ত্র হয়ে উঠল আর জি কর এবং সন্দেশখালি কাণ্ড। পিছিয়ে নেই তৃণমূল নেত্রীও। পাল্টা বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির খতিয়ান তুলে ধরে আক্রমণ শানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মোদীর ‘সুরক্ষা’ গ্যারান্টি ও শাহের তোপ: শনিবার এ রাজ্যে তিনটি সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর সাফ কথা:
-
“বিজেপি সরকার মানেই মা-বোনদের সুরক্ষার সম্পূর্ণ ভরসা। বাংলার কন্যারা যাতে ভয়হীনভাবে রাত-বিরেতে যাতায়াত করতে পারে, তা নিশ্চিত করবে বিজেপি।” অন্যদিকে অমিত শাহ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘হীরক রানি’ সম্বোধন করে বলেন:
-
“আর জি কর এবং সন্দেশখালি গোটা বিশ্বের সামনে বাংলাকে লজ্জিত করেছে।”
-
অসমের উদাহরণ টেনে শাহ দাবি করেন, “সেখানে রাত ১টায় ১০ ভরি সোনা পরে একা মেয়ে স্কুটারে ফিরতে পারে, কিন্তু মহিলা মুখ্যমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও বাংলায় মা-বোনেরা নিরাপদ নন।”
মমতার পাল্টা ‘উন্নাও-দিল্লি’ তোপ: বিজেপির এই লাগাতার আক্রমণের মুখে চুপ থাকেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। পাল্টা মোদী-শাহকে তোপ দেগে তাঁর প্রশ্ন:
-
“ভোট আস্লেই মহিলাদের অসম্মানের কথা মনে পড়ে? মা-বোনেরা বলুন তো, আপনারা কি এখানে থাকতে ভয় পান?”
-
বিজেপির উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন— “প্রথমে বলো উন্নাও কীভাবে হল? বিলকিস বানো মামলা বা ব্রিজভূষণ কী করছিল? দিল্লিতে কী হয় সবাই জানে।” মমতার দাবি, বিজেপি কেবল ভোটের সময় এসে মিথ্যে গল্প বানিয়ে নারী সুরক্ষার কথা বলে।
কেন এই ‘মহিলা ভোট’ নিয়ে এত লড়াই? ২০২১-এর ভোটে তৃণমূলের জয়ের পেছনে বড় ভূমিকা ছিল মহিলা ভোটারদের। এবার আর জি কর বা সন্দেশখালির মতো ঘটনাকে হাতিয়ার করে সেই ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরাতে চাইছে বিজেপি। অন্যদিকে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো জনমুখী প্রকল্পের পাল্টা ভরসায় রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এডিটরস নোট: আর জি করের স্মৃতি এখনও টাটকা। তার ওপর শাহের ‘অসম মডেল’ বনাম মমতার ‘দিল্লি মডেল’-এর লড়াই ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার। রবিবার যোগী আদিত্যনাথের উপস্থিতিতে এই লড়াই যে আরও তপ্ত হবে, তা বলাই বাহুল্য।