মোদীকে ‘কড়া’ চিঠি খাড়গের! মহিলা সংরক্ষণে কি শুধুই রাজনৈতিক ফায়দা? ভোটের মুখে চরম সংঘাত

বঙ্গভোটের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ। মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ ২০২৯ থেকেই কার্যকর করতে প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো চিঠির পাল্টায় এবার কড়া চিঠি দিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। মোদীর ‘গণতন্ত্র শক্তিশালী করার’ ডাককে কার্যত নস্যাৎ করে দিয়ে খাড়গে প্রশ্ন তুললেন সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে।

প্রধানমন্ত্রীর চিঠিতে যা ছিল: নরেন্দ্র মোদী ১৬ এপ্রিল থেকে শুরু হতে চলা সংসদের বিশেষ অধিবেশনের কথা উল্লেখ করে খাড়গেকে লিখেছিলেন:

  • উন্নত ভারত: নারীদের নেতৃত্ব ছাড়া ভারতের প্রগতি সম্ভব নয়।

  • ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস: ২০২৩ সালে সব দল এই বিল সমর্থন করেছিল, এবার তা বাস্তবায়নের পালা।

  • আহ্বান: দলমত নির্বিশেষে এই সংশোধনী পাশ করিয়ে গণতন্ত্রকে মজবুত করার অনুরোধ জানান তিনি।

খাড়গের ‘তীর্যক’ প্রত্যুত্তর: মোদীর চিঠির জবাবে কংগ্রেস সভাপতি যে পাল্টা যুক্তিগুলি দিয়েছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ:

  • ৩০ মাসের নীরবতা: ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বিল পাশের পর দীর্ঘ ৩০ মাস সরকার কেন চুপ ছিল? এখন ভোটের মুখে কেন এই তাড়াহুড়ো?

  • সীমানা নির্ধারণের ধোঁয়াশা: খাড়গের অভিযোগ, সীমানা নির্ধারণ (Delimitation) নিয়ে কোনও স্পষ্ট তথ্য না দিয়েই বিরোধীদের সহযোগিতা চাইছে সরকার। তথ্য ছাড়া আলোচনা অসম্ভব।

  • রাজনৈতিক ফায়দা: খাড়গে সরাসরি লিখেছেন, “সরকার নারীদের প্রকৃত ক্ষমতায়নের চেয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতেই এই বিল নিয়ে তাড়াহুড়ো করছে।”

  • অতীতের ব্যর্থতা: বিমুদ্রাকরণ, জিএসটি বা সেনসাস— জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের অতীত কর্মকাণ্ড কোনও আস্থা জাগায় না বলে তোপ দাগেন তিনি।

খাড়গের প্রস্তাব: কংগ্রেস সভাপতির সাফ কথা, যদি সরকার সত্যিই সবাইকে নিয়ে চলতে চায়, তবে ১৬ এপ্রিল নয়, বরং রাজ্যগুলির ভোট মিটে যাওয়ার পর অর্থাৎ ২৯ এপ্রিলের পর সর্বদল বৈঠক ডাকা হোক। সেখানে খুঁটিনাটি আলোচনার মাধ্যমেই বিলের সংশোধন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

এডিটরস নোট: লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের আগে মহিলা ভোটব্যাংক নিজেদের দখলে রাখতে এই ‘চিঠি-যুদ্ধ’ এক নতুন মাত্রা যোগ করল। মোদী সরকারের বিশেষ অধিবেশন ডাকার সিদ্ধান্তকে কংগ্রেস যেভাবে ‘রাজনৈতিক স্টান্ট’ হিসেবে দাগিয়ে দিল, তাতে ১৬ এপ্রিলের অধিবেশন বেশ উত্তপ্ত হতে চলেছে।

Samrat Das
  • Samrat Das