সংসদের বিশেষ অধিবেশনে বড় ধামাকা! নারী শক্তি বিলে পূর্ণ সমর্থন চাইলেন মোদী, ‘মিথ্যাচার’ নিয়ে সরব কংগ্রেস

ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মোড়। ২০৩৪ সালের অপেক্ষা না করে আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে মরিয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই লক্ষ্যেই আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডেকেছেন তিনি। বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে পাশ করাতে বিরোধী দলনেতাদের চিঠি লিখে পূর্ণ সমর্থন চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
মোদীর চিঠিতে ‘নারী শক্তি’র আহ্বান: প্রধানমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে দেশজুড়ে নারী শক্তির জয়গান গেয়েছেন। তাঁর বার্তার মূল পয়েন্টগুলি হলো:
-
২০২৯-এর লক্ষ্য: নারী শক্তি বন্দন আইনকে পূর্ণ ক্ষমতায় বাস্তবায়নের সময় এসেছে। ২০২৯-এর ভোট থেকেই মহিলাদের সংরক্ষণ দেওয়া সমীচীন।
-
গণতন্ত্রের শক্তি: এটি কোনও একক দল বা ব্যক্তির জয় নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের দায়িত্ব।
-
উন্নত ভারত: মহাকাশ থেকে স্টার্ট-আপ—সব ক্ষেত্রে কন্যারা সফল, তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁদের নেতৃত্ব প্রয়োজন।
-
তিন দিনের হুইপ: বিজেপি ১৬, ১৭ ও ১৮ এপ্রিল তাদের সকল সাংসদকে উপস্থিত থাকতে কড়া নির্দেশ দিয়েছে।
খাড়গের ‘বিস্ফোরক’ পাল্টা চিঠি: প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানকে স্রেফ ‘ভোটের চাল’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। মোদীকে লেখা পাল্টা চিঠিতে তিনি রীতিমতো তুলোধোনা করেছেন কেন্দ্রকে:
-
তথ্য গোপন: নির্বাচনী এলাকা পুনর্বিন্যাস (delimitation) সংক্রান্ত কোনও তথ্য ছাড়াই কেন এই তাড়াহুড়ো? তথ্য ছাড়া অর্থবহ আলোচনা অসম্ভব।
-
সংলাপ বিতর্ক: প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন দলগুলির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু খাড়গের পাল্টা দাবি—এই কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিরোধীদের আস্থায় না নিয়েই অধিবেশন ডাকা হয়েছে।
-
নির্বাচনী যোগ: ২৯ এপ্রিল ভোট শেষ হওয়ার আগে কেন এই অধিবেশন? কংগ্রেসের দাবি, ভোট মিটে গেলে তবেই সর্বদল বৈঠক ডেকে আলোচনা করা হোক।
কেন এই সংশোধনী? ২০২৩ সালে পাশ হওয়া আইন অনুযায়ী, জনগণনা ও সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর ২০৩৪ সালে এই সংরক্ষণ কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মোদী সরকার চাইছে সংশোধনী এনে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে আনতে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি মোদী সরকারের একটি বড় ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হতে পারে, যা নারী ভোটারদের মধ্যে বিজেপির অবস্থান আরও মজবুত করবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: ১৬ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ অধিবেশন ঘিরে এখন তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। মোদী কি পারবেন বিরোধীদের সমর্থন নিয়ে ইতিহাস গড়তে? না কি খাড়গের প্রশ্নে ব্যাকফুটে যাবে কেন্দ্র? নজর এখন সংসদের দিকে।