গণতন্ত্রের অধিকারে বড় মোচড়! সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তোলপাড় সারা দেশ, জেনে নিন আপনার অধিকারের সীমা

দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নাগরিকদের ভোটদান এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার নিয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ভোট দেওয়ার অধিকার বা নির্বাচনে লড়ার অধিকার কোনোটিই ভারতের সংবিধান স্বীকৃত ‘মৌলিক অধিকার’ (Fundamental Rights) নয়। এগুলি আসলে ‘বিধিবদ্ধ অধিকার’ (Statutory Rights), যা নির্দিষ্ট আইনের মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: রাজস্থানের একটি দুগ্ধ উৎপাদন সমবায় সমিতির নির্বাচনের নিয়মাবলী নিয়ে এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত। সেখানে প্রার্থীদের যোগ্যতার ক্ষেত্রে ন্যূনতম দুগ্ধ সরবরাহের একটি মাপকাঠি বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। রাজস্থান হাইকোর্ট আগে এই নিয়মটিকে ত্রুটিপূর্ণ বলে বাতিল করেছিল। কিন্তু হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা পৌঁছায় সুপ্রিম কোর্টে। বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি আর মাধবনের বেঞ্চ গত ১০ এপ্রিল এই মামলার শুনানিতে হাইকোর্টের আগের নির্দেশকে খারিজ করে দেন।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ: শীর্ষ আদালত জানায়, হাইকোর্টের যুক্তিতে গলদ ছিল। বিচারপতিদের মতে, যেহেতু ভোট দেওয়া এবং ভোটে লড়া বিধিবদ্ধ অধিকার, তাই আইনের মাধ্যমে এর ওপর নির্দিষ্ট শর্ত বা যোগ্যতার মাপকাঠি আরোপ করা যেতে পারে। আদালত বলেছে:
-
ভোটদানের অধিকার এবং ভোটে লড়ার অধিকারের অস্তিত্ব আইনের সীমার ওপর নির্ভর করে।
-
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতার শর্ত রাখা কোনোভাবেই সাংবিধানিক বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করে না।
-
ভোট দেওয়া এবং নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক চাহিদা বা অযোগ্যতার মাপকাঠি থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হাইকোর্টের সমালোচনা: সুপ্রিম কোর্ট রাজস্থান হাইকোর্টের তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছে, সব পক্ষের কথা না শুনেই ওই রায় দেওয়া হয়েছিল, যা ‘স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের’ পরিপন্থী। এই রায়ের ফলে এখন থেকে যে কোনো সংবিধিবদ্ধ নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতার মাপকাঠি রাখার পথ আরও প্রশস্ত হলো বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।