ভোটার তালিকায় ২ কোটি মানুষের নাম সাফ! যোগী রাজ্যে নির্বাচনের আগেই ‘ভোট লুট’-এর অভিযোগে সরব অখিলেশ

উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে শুক্রবার বড়সড় কম্পন সৃষ্টি হলো। বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনার (SIR) পর রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। আর এই তালিকা সামনে আসতেই শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক তর্জমা। একদিকে যখন নতুন ভোটারের জোয়ার দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে ২ কোটিরও বেশি নাম বাদ পড়া নিয়ে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব।
তালিকার পরিসংখ্যান: বড় প্রাপ্তি না বড় হার?
উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা নবদীপ রিনওয়া জানিয়েছেন, ১৬৬ দিনের টানা অভিযানের পর বর্তমানে রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৩৯ লক্ষ ৮৪ হাজার ৭৯২ জন।
-
নতুন সংযোজন: ৮৪ লক্ষ ২৮ হাজার ৭৬৭ জন নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন। বিশেষ করে প্রয়াগরাজ, লখনউ এবং জৌনপুরে ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
-
বিশাল পতন: তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে প্রায় ২ কোটি ০৬ লক্ষ ভোটারের নাম। কমিশনের দাবি, মৃত, স্থানান্তরিত বা ডুপ্লিকেট ভোটারদের সরাতেই এই পদক্ষেপ।
বিজেপি-কমিশন ‘যোগসাজশ’-এর অভিযোগ অখিলেশের
জয়পুর সফরে থাকা অখিলেশ যাদব এই তালিকা নিয়ে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তাঁর অভিযোগ:
“বিজেপি আসলে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগসাজশ করে ভোটে লড়ে। এসআইআর-এর নামে জালিয়াতি করে সমাজবাদী পার্টির সমর্থকদের নাম তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে।”
অখিলেশ দাবি করেছেন যে, উপনির্বাচনে যেভাবে ‘ভোট লুট’ হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামেও একই চক্রান্ত চলছে। তবে তাঁর হুঁশিয়ারি—লোকসভা নির্বাচনের মতো ২০২৭-এর বিধানসভা নির্বাচনেও বিজেপি শোচনীয়ভাবে পরাজিত হবে।
সপা-র স্মারকলিপি ও দাবি
ইতিমধ্যেই সমাজবাদী পার্টি মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তার কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। তাদের দাবি:
-
৪০৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের ১ লক্ষ ৭৭ হাজার ৫১৬টি বুথ থেকে কাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা চাই।
-
মৃত, স্থানান্তরিত বা ডুপ্লিকেট হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের তথ্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সরবরাহ করতে হবে।
-
ফর্ম-৬ (নতুন নাম) এবং ফর্ম-৮ (সংশোধন) অনুযায়ী বুথ ভিত্তিক বিশদ বিবরণ অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে।
উপসংহার: ২০২৭ সালের মহাযুদ্ধের আগে এই ভোটার তালিকা নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হলো, তা আগামী দিনে উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।