“মানুষের নয়, AI-এর কণ্ঠে বৈশাখী গান”-প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলাচ্ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব

বৈশাখ মানেই নতুন জামা, হালখাতা আর গান। তবে এবারের পহেলা বৈশাখ বাঙালির জন্য নিয়ে এসেছে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা। বাংলার চিরায়ত লোকজ বাদ্যযন্ত্র আর মানুষের কণ্ঠের চিরাচরিত প্রথা ভেঙে এই প্রথম বাংলা গানে সুর মেলাল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence)। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আর বাঙালির আবেগ মিশে তৈরি হয়েছে এক নতুন ‘ডিজিটাল বৈশাখ’।
মানুষের ভাবনা, এআই-এর কণ্ঠ: আইটি ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘মিউজিকফ্লাক্স স্টুডিও’ (MusicFlux Studio)-র একদল তরুণ প্রযুক্তিবিদের হাত ধরে তৈরি হয়েছে এই বিশেষ গান। গানটির কথা ও সুরের পরিকল্পনায় মানুষের সৃজনশীলতা থাকলেও, এর মূল কণ্ঠ এবং সম্পূর্ণ সংগীত পরিচালনা করা হয়েছে এআই অ্যালগরিদম ব্যবহার করে। প্রযুক্তিনির্ভর হলেও গানটিতে মাটির টান ও বাঙালির আবেগ অটুট রাখা হয়েছে।
যেভাবে তৈরি হলো এই গান: নির্মাতা শাহ ইমরাউল কায়ীশ জানান, এই সৃষ্টির পেছনে ছিল এক দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এআই-কে প্রথমে বাংলার লোকসংগীত, মাটির গান এবং বৈশাখের ঐতিহ্যবাহী সুরের ওপর গভীর প্রশিক্ষণ বা ‘প্রম্পট’ দেওয়া হয়। এরপর নির্দিষ্ট নির্দেশনার মাধ্যমে এমন একটি কণ্ঠস্বর তৈরি করা হয়েছে, যা একই সাথে আধুনিক এবং চিরায়ত ঘরানার।
গানের কথায় নতুন দিনের বার্তা: গানের কথাগুলোতে উঠে এসেছে শহুরে জীবনের যান্ত্রিকতা ছাপিয়ে নতুন দিনের নতুন সাজে সেজে ওঠার গল্প। [00:43] গানের শুরুতেই শহরের ধূসর ইটের খাঁচায় বাঙালির প্রাণের উৎসব জেগে ওঠার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। [01:45] “এসো হে বৈশাখ এসো উৎসবে হাতে হাত রেখে গাই প্রাণের গান”—এমন কথার মাধ্যমে ভেদাভেদ ভুলে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
[02:27] নাগরদোলায় শিশুর হাসি আর রবীন্দ্র সুরের ছোঁয়ায় উৎসবের যে আবহ তৈরি করা হয়েছে, তাতে প্রযুক্তি আর সংস্কৃতি মিলেমিশে একাকার।
দেখুন সেই বিশেষ ভিডিও: ইউটিউবে মুক্তির পরপরই গানটি দর্শক মহলে বেশ সাড়া ফেলেছে। ভিডিওটি দেখতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন: এসো হে বৈশাখ | পহেলা বৈশাখ নতুন গান ২০২৬
বাঙালির প্রাণের উৎসবে প্রযুক্তির এই নতুন সুর কতটা স্থায়ী জায়গা করে নেবে, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা। তবে এআই-এর এই জয়যাত্রা সঙ্গীত জগতে নতুন এক দিগন্তের সূচনা করল, তা বলাই বাহুল্য।