CCTV-ক্যামেরা লাগানো ক্যাব নিয়ে ঘুরছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, জেনেনিন এগুলির কী কী কাজে?

শহর কলকাতার রাজপথে এখন রাতদিন দেখা মিলছে বিশেষ এক ধরনের অ্যাপ ক্যাবের। সাদা চোখে সাধারণ গাড়ি মনে হলেও, একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যাচ্ছে সেগুলির ছাদে বা ভেতরে লাগানো রয়েছে বিশেষ সিসিটিভি ক্যামেরা। নির্বাচন চলাকালীন আদর্শ আচরণবিধি বলবৎ থাকায় শহরজুড়ে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। আর সেই নজরদারির মূল হাতিয়ার হয়ে উঠেছে এই ‘হাইটেক’ ক্যাবগুলি।
কীভাবে কাজ করছে এই সিসিটিভি ক্যাব? নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এই গাড়িগুলিতে থাকছেন একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট, একজন ভিডিওগ্রাফার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান ও পুলিশ আধিকারিক। এই দলটিকে বলা হচ্ছে ‘ফ্লাইং স্কোয়াড’।
-
সরাসরি নজরদারি: গাড়ির ক্যামেরার ফুটেজ সরাসরি লাইভ সম্প্রচারিত হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের কন্ট্রোল রুমে।
-
দ্রুত পদক্ষেপ: কোনো এলাকায় গণ্ডগোল, বেআইনি জমায়েত বা সন্দেহজনক কিছু নজরে এলেই ১০০ মিনিটের মধ্যে সেখানে পৌঁছে যাবে অতিরিক্ত বাহিনী।
-
নাকা চেকিং: শহরের বিভিন্ন মোড়ে নাকা চেকিংয়ের সময় এই গাড়িগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে যাতে পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিও রেকর্ড থাকে।
অ্যাপ ক্যাব মালিকদের জন্য রোজগারের সুযোগ: কমিশন এই কাজের জন্য আলাদা কোনো গাড়ি না কিনে সাধারণ অ্যাপ ক্যাব মালিকদের থেকেই গাড়ি ভাড়া নিচ্ছে। প্রতিটি গাড়িতে সাময়িকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা ইনস্টল করা হয়েছে। প্রতিদিনের হিসেবে ক্যাব মালিকদের নির্দিষ্ট ভাড়ার টাকাও দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
কমিশনের কড়া ঘেরাটোপ: ভোট ঘোষণার পর থেকে সামগ্রিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে বাংলাসহ পাঁচ রাজ্যে প্রায় ৫,৭১৩টি ফ্লাইং স্কোয়াড এবং ৫,২০০টি স্ট্যাটিক সার্ভেল্যান্স টিম মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি কলকাতার এই ক্যামেরা লাগানো গাড়িগুলি এখন কমিশনের ‘আসল চোখ’।
রাজপথে এমন অভিনব নজরদারি আদতে ভোটারদের মনে কতটা নিরাপত্তা জোগাতে পারে, এখন সেটাই দেখার।