“ও ছোট হলে কী হবে, ও আমার লক্ষ্মী!” সুন্দরীর হাত ধরলেন খাটো যুবক, নিরাপত্তার খোঁজে এখন পুলিশ স্টেশনে দম্পতি!

ভালোবাসা যে অন্ধ, তার উদাহরণ যুগে যুগে পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু অন্ধ্রপ্রদেশের মাছিলিপত্তনমের রাজুপেতার এক তরুণী যা করে দেখালেন, তা রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। সমাজ কী বলবে, পরিবার আদেও মেনে নেবে কি না—সব সংশয় উড়িয়ে দিয়ে নিজের পছন্দের ‘খাটো’ মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিলেন এই অপরূপ সুন্দরী। বর্ণ, সৌন্দর্য বা উচ্চতা যে মনের মিলনের কাছে তুচ্ছ, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো।

স্কুল জীবনের বন্ধুত্ব থেকে পরিণয়
ঘটনাটি রাজুপেটার বাসিন্দা ভেমুলা শশী এবং এক মুসলিম তরুণীর। দুজনের পরিচয় হয়েছিল সেই নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়। প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর তা গভীর প্রেমে রূপ নেয়। শশী শারীরিক গঠনের দিক থেকে বামন হলেও, সেই সীমাবদ্ধতা তরুণীর চোখে কখনও ধরা পড়েনি। তাঁর কাছে শশীর স্বভাব, আত্মবিশ্বাস এবং পারস্পরিক ভরসা ছিল সবকিছুর ঊর্ধ্বে। বর্তমানে শশী জেলা আদালতে চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে কর্মরত এবং তরুণীটি একটি ওষুধের দোকানে কাজ করেন।

সমাজ ও ধর্মের দেওয়াল ভেঙে সংগ্রাম
এই বিয়েটি কেবল শারীরিক পার্থক্যের কারণেই চ্যালেঞ্জিং ছিল না, এতে জড়িয়ে ছিল ভিন্ন ধর্মের প্রেক্ষাপটও। মেয়েটির পরিবার এবং আত্মীয়স্বজন এই সম্পর্ককে মেনে নিতে অস্বীকার করেন। শুরু হয় তীব্র বিরোধিতা ও সামাজিক লাঞ্ছনা। কিন্তু ওই তরুণী নিজের সিদ্ধান্তে পাহাড়ের মতো অটল ছিলেন। তাঁর কাছে ভালোবাসার মানুষের উচ্চতা বা সমাজের উপহাসের চেয়ে বড় ছিল তাঁদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক।

নিরাপত্তার খোঁজে পুলিশ স্টেশন
পারিবারিক চাপ ও হুমকি বাড়তে থাকায় নবদম্পতি নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে এনুকুদুরুপেটা পুলিশ স্টেশনে আশ্রয় নেন। সেখানে তাঁরা পুলিশের কাছে সুরক্ষা দাবি করেন এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, কোনো অবস্থাতেই তাঁরা একে অপরকে ছেড়ে যাবেন না। কনের কথায়, “আমি সেই নবম শ্রেণি থেকেই ওকে ভালোবাসি, ওর উচ্চতা আমার কাছে কোনো বিষয়ই নয়।” এই দম্পতি আজ তাঁদের জন্য এক বড় উদাহরণ, যারা ভালোবাসাকে কেবল বাহ্যিক জাঁকজমক দিয়ে বিচার করে।