লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ধামাকা আপডেট! এপ্রিলেই কি ঢুকবে ডাবল টাকা? বড় ঘোষণা নবান্নে

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার ঠিক আগেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে বড়সড় চমক দিতে চলেছে রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে খবর, মে মাসের কিস্তির টাকা সম্ভবত এপ্রিল মাসেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ, এপ্রিল মাসে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রাপকরা ‘ডাবল’ সুবিধা পেতে পারেন।
কেন এই আগাম টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা?
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, মে মাসে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা এবং চূড়ান্ত পর্বের প্রক্রিয়া চলার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সময় সরকারি আধিকারিক ও কর্মীদের সিংহভাগই নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকবেন। এছাড়া, ভোটের সময় আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct) জারি থাকায় আর্থিক লেনদেনে নানা প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। উপভোক্তারা যাতে কোনোভাবেই সমস্যায় না পড়েন এবং তাঁদের প্রাপ্য টাকা পেতে দেরি না হয়, সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মে মাসের টাকা এপ্রিলেই মিটিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
কত টাকা পাবেন উপভোক্তারা?
বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা ১,৭০০ টাকা করে পাচ্ছেন (২০২৬-এর বাজেট বৃদ্ধির পর)। যদি এপ্রিল মাসে মে মাসের কিস্তিটিও আগাম দেওয়া হয়, তবে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা একবারে ৩,০০০ টাকা এবং সংরক্ষিত শ্রেণির মহিলারা ৩,৪০০ টাকা পেতে পারেন। এটি রাজ্যের প্রায় ২.৫ কোটি মহিলার কাছে এক বড় স্বস্তি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের ঠিক আগে মহিলাদের হাতে এই নগদ অর্থ পৌঁছে দেওয়া শাসকদলের একটি অত্যন্ত সুকৌশলী পদক্ষেপ। যদিও বিরোধী দলগুলি এই সিদ্ধান্তের পেছনে ‘ভোটব্যাঙ্ক’ রাজনীতির অভিযোগ তুলেছে, নবান্নের আধিকারিকরা একে নিখাদ ‘প্রশাসনিক তৎপরতা’ হিসেবেই দেখছেন। নবান্নের এক আধিকারিক জানান, “উপভোক্তাদের স্বার্থই আমাদের কাছে অগ্রাধিকার। মে মাসের ব্যস্ততার কারণে যাতে কোনো কিস্তি আটকে না যায়, সেই দিকটিই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” যদিও আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি এখনও জারি হয়নি, তবে নবান্নে এই নিয়ে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে।