মালদায় মধ্যরাত পর্যন্ত বিডিও অফিসে বন্দি বিচারক ও আধিকারিকরা! কী নিয়ে রণক্ষেত্র কালিয়াচক?

ভোটার তালিকা সংশোধন ও নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মালদার কালিয়াচক-২ নম্বর ব্লক। বিডিও অফিসের ভেতর দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও করে রাখা হল সাতজন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে, যাঁদের মধ্যে তিনজন মহিলাও ছিলেন। বুধবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ চলে গভীর রাত পর্যন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষমেশ বিশাল পুলিশ বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
প্রশাসন সূত্রে খবর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ভোটার তালিকায় যাদের নামের পাশে ‘বিবেচনাধীন’ (under adjudication) তকমা ছিল, সেই নামগুলি খতিয়ে দেখার কাজ করছেন বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা (SIR প্রক্রিয়া)। বুধবার কালিয়াচক-২ নম্বর ব্লকে এই কাজ চলাকালীনই একদল মানুষ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অন্যায়ভাবে তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।
বিক্ষোভকারীরা প্রথমে আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করার দাবি জানান। কিন্তু অফিসের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় বিকেল ৪টে নাগাদ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গোটা বিডিও অফিস চত্বর ঘিরে ফেলেন কয়েকশো মানুষ। অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন বিচার বিভাগীয় সাত আধিকারিক। অন্ধকার নামার সাথে সাথে উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে। বিক্ষোভকারীরা অফিসের গেট আটকে রাখায় আধিকারিকরা বেরোতে পারছিলেন না।
ঘটনার খবর পৌঁছাতেই নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তোলপাড় শুরু হয়। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তর থেকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। কমিশনের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, “আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। অবিলম্বে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।” রাতেই পুলিশি পাহারায় আধিকারিকদের উদ্ধার করা হয়।
এই নজিরবিহীন ঘটনায় চরম উষ্মা প্রকাশ করেছে কমিশন। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেলের (DGP) কাছে সবিস্তার রিপোর্ট তলব করেছে সিইও দফতর। বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কেন গাফিলতি ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভোট উৎসবের প্রাক্কালে মালদার এই ঘটনা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।