আজ ‘বিশ্ব ঘুম দিবস’! বালিশের সঙ্গে আড়ি নয়, সুস্থ থাকতে জানুন পর্যাপ্ত ঘুমের ম্যাজিক

দ্রুতগতির জীবনে স্মার্টফোন আর কাজের চাপে আমরা আমাদের শরীরের সবচেয়ে বড় ‘চার্জার’ অর্থাৎ ঘুমকেই অবহেলা করছি। গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা আর ভোরে অ্যালার্মের শব্দে ধড়ফড় করে ওঠা এখন এক মরণফাঁদ। এই অভ্যাস বদলাতে এবং ঘুমের গুরুত্ব বোঝাতে আজ, ১৩ মার্চ, বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব ঘুম দিবস’।

২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য (Theme):
চলতি বছরের মূল মন্ত্র হলো—‘ভালো ঘুম, উন্নত জীবন’ (Sleep Well, Live Better)। ঘুম কোনো বিলাসিতা নয়, বরং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য জল ও খাবারের মতোই অপরিহার্য একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।

কেন ভালো ঘুম প্রয়োজন?
ঘুমের সময় আমাদের শরীর কোনো অলস সময় কাটায় না, বরং শরীরের ভেতর চলে ‘মেরামতির’ কাজ।

মস্তিষ্কের বিশ্রাম: স্মৃতিশক্তি মজবুত হয় এবং মানসিক দক্ষতা বাড়ে।

হরমোন ভারসাম্য: ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং মেজাজ ফুরফুরে রাখতে সাহায্য করে।

রোগ প্রতিরোধ: পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেমকে শক্তিশালী করে।

দ্রুত ও গভীর ঘুমের ৫টি গোল্ডেন রুলস:
১. ডিজিটাল ডিটক্স: ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভি বন্ধ রাখুন। স্ক্রিনের নীল আলো (Blue Light) ঘুমের হরমোন ‘মেলাটোনিন’ নিঃসরণে বাধা দেয়।
২. নির্দিষ্ট রুটিন: প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস তৈরি করুন। এতে শরীরের ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’ ঠিক থাকে।
৩. হালকা ডিনার: রাতে অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। ভারী খাবার হজম করতে শরীর ব্যস্ত থাকলে ঘুম আসতে দেরি হয়।
৪. আরামদায়ক পরিবেশ: শোয়ার ঘরের আলো কমিয়ে দিন এবং ঘরকে শান্ত রাখুন। মন শান্ত থাকলে শরীর দ্রুত ঘুমের সংকেত পায়।
৫. শরীরচর্চা: দিনে অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম করুন। দিনের ক্লান্তি রাতের গভীর ঘুমের সহায়ক হয়।

Saheli Saha
  • Saheli Saha