৩ মিনিট ১০ সেকেন্ডের ‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক! ১৯৩৭-এর নিয়ম বদলে নতুন প্রোটোকল শাহের মন্ত্রকের

ভারতের জাতীয় মর্যাদার প্রতীক হিসেবে এবার সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ সংগীতের ব্যবহার নিয়ে বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটল মোদী সরকার। অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বুধবার একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, এখন থেকে প্রতিটি সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-র আগেই রাষ্ট্রীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া এবং বাজানো বাধ্যতামূলক। এই সংগীত চলাকালীন শ্রোতাদের সসম্মানে উঠে দাঁড়ানোও আবশ্যিক করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১৯৩৭ সাল থেকে চলে আসা প্রথা ভেঙে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত গানটির প্রথম দুটি স্তবকের বদলে এখন থেকে মোট ৬টি স্তবকই গাইতে হবে। এই পূর্ণাঙ্গ সংস্করণটির সময়সীমা হবে ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড। জাতীয় পতাকা উত্তোলন, রাষ্ট্রপতির আগমন ও বিদায়, জাতির উদ্দেশে ভাষণ এবং পদ্ম সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে। একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে রাজ্যপালদের অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও। তবে সিনেমা হলে এই গান বাজানো বাধ্যতামূলক করা হয়নি।
কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিপূর্বেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের সুর শোনা গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার অভিযোগ তুলেছেন যে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে ‘বিভাজনের রাজনীতি’ কাজ করছে। তিনি বলেন, “বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ সুর দিয়েছিলেন— তা নিয়ে দ্বিমত নেই। কিন্তু পরের স্তবকগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে ভারতকে বিভাজিত করার বিকৃত মনোকামনা রয়েছে এদের।” বন্দে মাতরমের সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে কেন্দ্রের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ জাতীয় স্তরে নতুন আলোচনার জন্ম দিল।