কয়লাকাণ্ডে পুলিশের ডেরায় ইডি! বুদবুদ থানার ওওসি-কে তলব, মিলল পাচারের হাড়হিম করা ‘ব্লু-প্রিন্ট’

পশ্চিমবঙ্গে কয়লা পাচার মামলার তদন্তে এবার সরাসরি পুলিশের জালে টান দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। মঙ্গলবার কলকাতা, দুর্গাপুর, আসানসোল এবং দিল্লি-সহ মোট ১০টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই অভিযানের পরই বুদবুদ থানার নতুন ওসি (OC) মনোরঞ্জন মণ্ডল এবং লালা-ঘনিষ্ঠ কয়লা ব্যবসায়ী চিন্ময় মণ্ডলকে তলব করা হয়েছে। মনোরঞ্জন মণ্ডলের দুর্গাপুরের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেছেন আধিকারিকরা।

মঙ্গলবারের এই মেগা অভিযানে পশ্চিম বর্ধমানের জামুড়িয়ায় ব্যবসায়ী অমিত বনশলের বাড়িতে হানা দিয়ে চক্ষু চড়কগাছ ইডি আধিকারিকদের। বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে থরে থরে সাজানো নোটের বান্ডিল। টাকা গুনতে শেষ পর্যন্ত ৩টি মেশিন নিয়ে আসতে হয়। ইডি সূত্রে দাবি, দুটি জায়গা থেকে মোট ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। অমিত বনশল মূলত হাওয়ালার কারবার চালাতেন এবং নিজের অ্যাকাউন্ট ভাড়া দিয়ে কয়লা পাচারের কালো টাকা সাদা করার কাজ করতেন বলে অভিযোগ।

তবে শুধু নগদ টাকা নয়, ইডি-র দাবি— কয়লা পাচারের পুরো ‘ব্লু-প্রিন্ট’ এখন তাঁদের হাতে। তল্লাশিতে প্রায় দেড় হাজার পাতার নথি, ১২টি মোবাইল ফোন এবং প্রচুর ডিজিটাল এভিডেন্স মিলেছে। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ঘেঁটে জানা গিয়েছে, মাইনিং থেকে ট্রান্সপোর্টেশন— কার হাতে কত টাকা যেত এবং কারা এই চক্রের নেপথ্যে প্রভাবশালী হিসেবে কাজ করত, তার যাবতীয় তথ্য এখন এজেন্সির কবজায়। এই ডিজিটাল প্রমাণগুলি তদন্তকে এক নতুন দিশা দেখাবে বলে মনে করছেন ইডি আধিকারিকরা।