সুপ্রিম কোর্টে মমতার স্বস্তি না কি অস্বস্তি? ERO-ই শেষ কথা, তবে SIR হবেই—জানাল শীর্ষ আদালত

পশ্চিমবঙ্গের ভোট প্রস্তুতি এবং এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সোমবারের রায় কার্যত মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। একদিকে যেমন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা অভিযোগের কিছুটা মান্যতা মিলেছে, অন্যদিকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে বিরোধ থাকলেও এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ হচ্ছে না। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মাইক্রো অবজার্ভাররা পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকলেও ভোটারদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল ইআরও (ERO)-দেরই থাকবে।
এসআইআর প্রক্রিয়ার সময়সীমা নিয়ে যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা প্রশমিত করতে আদালত ৭ দিন সময় বাড়িয়েছে। তবে রাজ্য সরকারের জন্য কঠোর বার্তাও ছিল এই রায়ে। শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, ৮ হাজার ৫০৫ জন রাজ্য সরকারি আধিকারিককে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে কাজে যোগ দিতে হবে। কাজের ক্ষেত্রে কোনো রকম শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এসআইআর পর্বকে কেন্দ্র করে রাজ্যের একাধিক জেলায় যে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য সরাসরি রাজ্যের পুলিশ মহানির্দেশক বা ডিজি (DG)-কে শোকজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ ডিগির কাছে জানতে চেয়েছে, কেন আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ? আগামী ৭ দিনের মধ্যে এই বিষয়ে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শুরুতেই প্রশাসনিক ও আইনি চাপে নবান্ন, তা বলাই বাহুল্য।