‘ইরানে অভ্যুত্থান ঘটানো আমেরিকার দিবাস্বপ্ন!’ ওয়াশিংটনকে কড়া হুঁশিয়ারি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

ইরানে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা আমেরিকার জন্য কেবল একটি ‘স্বপ্ন’ ছাড়া আর কিছুই নয়। সম্প্রতি সিএনএন তুর্ক-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিমান হামলা বা যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানকে দুর্বল করা গেলেও সেখানকার শাসনব্যবস্থা উপড়ে ফেলা অসম্ভব। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার আবহেই এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
হাকান ফিদানের মতে, মধ্যপ্রাচ্য আর কোনো যুদ্ধের ভার বইতে প্রস্তুত নয়। তিনি চারটি বিশেষ কারণ উল্লেখ করে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন কেন ইরানে অভ্যুত্থান ঘটানো কঠিন। প্রথমত, ইরানের শাসন কাঠামো অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এটি কোনো রাজতন্ত্র নয়। দ্বিতীয়ত, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি জনগণের কোনো গণ-অসন্তোষ নেই। তৃতীয়ত, নাগরিকদের হত্যা করে সরকার পরিবর্তন করা যায় না। চতুর্থত, তিনি নিজে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার গভর্নর থাকার সুবাদে দাবি করেছেন যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে এমন কোনো প্রমাণ নেই।
আমেরিকার দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফিদান বলেন, “ইরানের নীতি নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে, কিন্তু সেখানকার মানুষের কষ্ট নিয়ে আমেরিকার কোনো মাথাব্যথা নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, ইরানে নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন হয় এবং অর্থনৈতিক সংকট সমাধানের চাবিকাঠি সেই নির্বাচিত সরকারের হাতেই থাকা উচিত। তুরস্কের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি জানান, কোনো যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তুরস্ক আমেরিকাকে সাহায্য করবে না। রাষ্ট্রপতি এরদোগান শান্তি স্থাপনে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন এবং তুরস্ক যেকোনো উপায়ে সংঘাত এড়াতে চায়।