আকাশের দখল কার হাতে? ভারতের ১১৪টি যুদ্ধবিমান চুক্তিতে রাফালের সামনে গ্রিপেনের চ্যালেঞ্জ!

ভারতীয় বায়ুসেনার ১১৪টি মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফট (MRFA) চুক্তির লড়াই আবার তুঙ্গে। সিঙ্গাপুর এয়ারশোতে সুইডিশ সংস্থা সাব (Saab) তাদের অত্যাধুনিক ‘গ্রিপেন-ই’ (Gripen E) যুদ্ধবিমানকে ভারতের জন্য সেরা বিকল্প হিসেবে তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, চলতি মাসেই ফরাসি রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ভারত সফরের আগে রাফালে (Rafale) চুক্তিতে বড় অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যদিও বায়ুসেনার ঝোঁক রাফালের দিকেই, তবে কারিগরি ও কৌশলগত দিক থেকে এই দুই যুদ্ধবিমানের তুলনা প্রতিরক্ষা মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
শক্তির লড়াই: রাফালে বনাম গ্রিপেন-ই ইঞ্জিন এবং বহন ক্ষমতার দিক থেকে ফরাসি রাফালে অনেকটাই এগিয়ে। রাফালে দুটি ইঞ্জিন বিশিষ্ট বিমান, যা প্রায় ৯৫০০ কেজি অস্ত্র বহন করতে পারে। অন্যদিকে গ্রিপেন-ই একক ইঞ্জিনের এবং এর বহন ক্ষমতা ৭২০০ কেজি। গতির ক্ষেত্রে অবশ্য গ্রিপেন (ম্যাক ২.০) রাফালের (ম্যাক ১.৮) চেয়ে কিছুটা দ্রুত। তবে রাফালের তুরুপের তাস হলো এর ‘স্পেকট্রা’ ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা এবং পারমাণবিক হামলার সক্ষমতা। গ্রিপেনের প্রধান শক্তি এর নমনীয়তা; এটি খুব ছোট রানওয়ে বা হাইওয়ে থেকেও উড্ডয়ন করতে পারে এবং এতে ভারতের নিজস্ব অস্ত্র ও সফটওয়্যার সহজে যুক্ত করা সম্ভব।
খরচের হিসেব: আর্থিক দিক থেকে গ্রিপেন বেশ সাশ্রয়ী। একটি গ্রিপেন-ই এর দাম যেখানে প্রায় ২১০ মিলিয়ন ডলার, সেখানে রাফালের দাম প্রায় ৩৪০ মিলিয়ন ডলার। এমনকি প্রতি ঘণ্টায় ওড়ানোর খরচও গ্রিপেনে অনেক কম ($৪,০০০-$৮,০০০), যেখানে রাফালের ক্ষেত্রে তা ১৪,০০০ থেকে ১৮,০০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে ভারত কেবল যুদ্ধবিমান নয়, চায় ইঞ্জিন তৈরির প্রযুক্তি। ফ্রান্স ইতিমধ্যেই ভারতের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান AMCA-র ইঞ্জিন তৈরিতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে, যা রাফালে চুক্তির কৌশলগত গুরুত্ব কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।