‘শাসকের বুটের তলায় বিবেক পিষ্ট’! SIR ইস্যুতে এবার অগ্নিগর্ভ কবিতা লিখলেন অভিষেক, কাঁপছে কি দিল্লি?

রাজনীতির ময়দান থেকে এবার সাহিত্যের আঙিনায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এই সাহিত্য নিছক বিনোদন নয়, বরং প্রতিবাদের এক শাণিত অস্ত্র। SIR (Special Information Report) ইস্যুতে বাংলার মানুষের হয়রানি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার প্রতিবাদে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি জ্বালাময়ী কবিতা পোস্ট করেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। কবিতার ছত্রে ছত্রে উঠে এসেছে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিড়ম্বনা এবং শাসকের প্রতি তীব্র ধিক্কার।
সম্প্রতি দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করে কড়া ভাষায় নিজের আপত্তির কথা জানিয়েছিলেন অভিষেক। সেখানে কমিশনারের উদ্দেশে তাঁর সেই মন্তব্য— ‘আমি নির্বাচিত, আপনি মনোনীত; আঙুল নামিয়ে কথা বলুন’— রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কলম ধরলেন তিনি।
কবিতার মূল সুর: প্রতিবাদ ও অস্বীকার অভিষেক তাঁর কবিতায় লিখেছেন, “আমি অস্বীকার করি—এই হঠকারিতা, এই তালিকার শাসন, এই ভয়ের রাজত্ব।” তিনি প্রশ্ন তুলেছেন নাগরিকত্ব এবং কাগজ দেখানোর রাজনীতি নিয়ে। তাঁর মতে, মানুষের ইতিহাস, ঘাম এবং মাটির চেয়েও আজ রাষ্ট্রের কাছে কাগজ বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কবিতায় তিনি উল্লেখ করেছেন, ১৫০ সংখ্যাটি কেবল পরিসংখ্যান নয়, এটি আসলে রাষ্ট্রের লাগানো আগুনে সাধারণ মানুষের আর্তনাদ।
সংবিধান ও অধিকারের লড়াই তৃণমূল সাংসদ মনে করেন, যে আইন মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয় বা মানুষকে সমাজ থেকে ছেঁটে ফেলে, তা আইন নয় বরং ‘ফাঁসি’। শাসকের দম্ভ এবং অহংকারকে বিঁধে তিনি লিখেছেন, “সাক্ষী যখন কথা বলে, সিংহাসন তখন কাঁপে।” অভিষেক স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অন্যায়ের সঙ্গে আপস করে তিনি শান্তি চান না। নীরব থাকাকে তিনি ইতিহাসের পাতায় অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে SIR এবং নাগরিকত্ব ইস্যুকে হাতিয়ার করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে জনমত গঠনের চেষ্টা করছেন, এই কবিতা তারই একটি অংশ। শাসকের বুটের তলায় পিষ্ট হওয়া ‘বিবেক’ এবং ‘সত্য’ পুনরুদ্ধারের ডাক দিয়ে তিনি আসলে বাংলার মানুষের আবেগকেই ছুঁতে চেয়েছেন।