গাজিয়াবাদে ৩ বোনের রহস্যময় মৃত্যু: ৩ স্ত্রী ও লিভ-ইন পার্টনারের ভিড়ে একই ঘরে ঘুমাত ৯ জন!

গাজিয়াবাদে তিন নাবালিকা বোনের মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্রমশ দানা বাঁধছে রহস্য। ভারত সিটি সোসাইটির নবম তলা থেকে তিন বোনের ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনায় তদন্তে নামতেই পুলিশের হাতে এসেছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। অভিযুক্ত বাবা চেতন কুমারের বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি মেলায় ঘনীভূত হচ্ছে সন্দেহ।
একই ঘরে ৯ সদস্যের বসবাস: পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, চেতন কুমার তাঁর তিন স্ত্রী—সুজাতা, হিনা ও টিনা এবং পাঁচ সন্তানকে নিয়ে তিন বেডরুমের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, তিনটি ঘর থাকা সত্ত্বেও পরিবারের ৯ জন সদস্যই একটি মাত্র ঘরে ঘুমাতেন। কেন তাঁরা এমনটা করতেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বাবার বয়ানে অসঙ্গতি: এসিপি জানিয়েছেন, চেতন কুমার বারবার তাঁর বয়ান পরিবর্তন করছেন। প্রথমে তিনি তাঁর তৃতীয় স্ত্রী টিনার কথা গোপন করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, প্রথম স্ত্রী গর্ভধারণে অক্ষম হওয়ায় তিনি দ্বিতীয় বিবাহ করেন, কিন্তু সন্তানদের বয়সের হিসেবে সেই দাবি ধোপে টেকেনি। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে চেতনের বাবার মৃত্যুও হয়েছিল ফ্ল্যাটের ছাদ থেকে পড়ে, যা এই মামলায় নতুন মোড় এনে দিয়েছে।
মোবাইল আসক্তি না কি অনলাইন গেমের বলি? তদন্তে জানা গেছে, আত্মঘাতী তিন মেয়ের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়েছিলেন বাবা। এরপরই তারা অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। মৃত মেয়েদের দাদুর দাবি, একটি কোরিয়ান টাস্ক-ভিত্তিক অনলাইন গেমের নেশায় আসক্ত ছিল তারা। তিনি সরকারকে এই ধরনের গেম নিষিদ্ধ করার আবেদন জানিয়েছেন। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, মোবাইল কেড়ে নেওয়াই আত্মহত্যার একমাত্র কারণ, নাকি এর পেছনে রয়েছে পারিবারিক অশান্তির কোনো গভীর ইতিহাস।