যুদ্ধকালীন আবহে মোদী-কোরিয়া মাস্টারস্ট্রোক! দিল্লির বৈঠক থেকে কাঁপল দুনিয়া?

একদিকে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা, অন্যদিকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা— এমন এক সংকটের মুহূর্তে বিশ্বশান্তির নতুন পথ দেখাতে হাত মেলাল ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া। সোমবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ুং-এর মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সাক্ষাৎ কেবল দ্বিপাক্ষিক নয়, বরং আন্তর্জাতিক স্তরে এক শক্তিশালী বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
শান্তি প্রতিষ্ঠায় বড় চাল
২০২৬-এর শুরু থেকেই ইরান এবং মার্কিন-ইজরায়েল বাহিনীর সামরিক সংঘাতে বিশ্বজুড়ে জাহাজ চলাচল ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী সাফ জানান, “ভারত ও কোরিয়া স্থিতিশীলতার দুই মজবুত স্তম্ভ।” হায়দ্রাবাদ হাউসে আয়োজিত বৈঠকে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের উপস্থিতিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হয়েছে, যা প্রতিরক্ষা থেকে বাণিজ্য— সব ক্ষেত্রেই নতুন দিশা দেখাবে।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে কোরিয়ার প্রবেশ
ভারতের হাত ধরে দুটি বড় আন্তর্জাতিক জোটে পা রাখল দক্ষিণ কোরিয়া। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানান যে, এবার থেকে ‘ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স’ এবং ‘ইন্দো-প্যাসিফিক ওশেনস ইনিশিয়েটিভ’-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে সিওল। মোদীর মতে, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং প্রগতিশীল ইন্দো-প্যাসিফিক গড়তে দুই গণতান্ত্রিক দেশের জোটবদ্ধ হওয়া সময়ের দাবি।
রবীন্দ্রনাথের সেই ‘পূর্বের প্রদীপ’
এদিন ভাষণে বাঙালির আবেগকে ছুঁয়ে যান মোদী। প্রায় ১০০ বছর আগে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোরিয়াকে ‘পূর্বের প্রদীপ’ বলে অভিহিত করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গ টেনেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০৪৭ সালের মধ্যে ‘উন্নত ভারত’ গড়ার যে শপথ আমরা নিয়েছি, সেই লক্ষ্যে কোরিয়া আমাদের অন্যতম প্রধান সঙ্গী।”
বিশ্ব সংস্থায় সংস্কারের দাবি
দুই দেশই একমত হয়েছে যে, রাষ্ট্রসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বর্তমান কাঠামো দিয়ে আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তাই বিশ্ব শান্তির স্বার্থে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল সংস্কার প্রয়োজন।