মদপ্রেমীদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল! ভোটের আগে টানা ‘ড্রাই ডে’ ঘোষণা কমিশনের, জানুন তালিকা

ভোট মানেই টানটান উত্তেজনা, আর সেই উত্তেজনার পারদ নিয়ন্ত্রণ করতে এবার বড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গ সহ পাঁচ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ‘ড্রাই ডে’ (Dry Day) বা মদ্যপান নিষিদ্ধ করার ঘোষণা করা হয়েছে। ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই বোতলবন্দি হবে সুরা। এমনকি ফল প্রকাশের দিনও থাকছে কড়া নিষেধাজ্ঞা।
কবে কবে বন্ধ থাকছে মদের দোকান?
নির্বাচন কমিশনের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন দুই দফার ভোটের নির্ঘন্ট মেনে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ড্রাই ডে কার্যকর হবে:
-
প্রথম দফা (২৩ এপ্রিল): ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে এলাকায় মদ বিক্রি ও সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ।
-
দ্বিতীয় দফা (২৯ এপ্রিল): একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রেও।
-
ফল প্রকাশ (৪ মে): আগামী ৪ মে সোমবার ভোট গণনা। ওইদিনও রাজ্যজুড়ে মদের ওপর থাকবে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা। অর্থাৎ, জয়ের আনন্দ বা হারের বিষাদ—কিছুতেই গ্লাসে চুমুক দেওয়া চলবে না।
বাড়িতে মদ মজুত করলেই বিপদ!
শুধু দোকান বা বার বন্ধ রাখাই নয়, এবার কমিশনের নজর আপনার ঘরের দিকেও। ব্যক্তিগতভাবে অতিরিক্ত মদ মজুত রাখার ক্ষেত্রেও কড়া নজরদারি চালাচ্ছে আবগারি দফতর। নিয়ম ভেঙে বাড়িতে বিপুল পরিমাণ সুরা মজুত রাখলে আইনি ব্যবস্থা এবং জেল-জরিমানা পর্যন্ত হতে পারে।
কোথায় কোথায় চলবে না গ্লাস?
১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী, ড্রাই ডে-র দিনগুলিতে নিচের জায়গাগুলোতে মদ কেনাবেচা বা পরিবেশন করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে:
-
দেশি ও বিদেশি মদের দোকান।
-
রেস্তোরাঁ ও বার।
-
লাইসেন্সপ্রাপ্ত ক্লাব।
-
এমনকি পাঁচতারা (Star Hotels) হোটেলেও মিলবে না সুরা।
কমিশনের এই কড়াকড়ি কেন?
বিগত ১৫ বছরের ভোটের ইতিহাস পর্যালোচনা করে কমিশন দেখেছে, ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে বা গণনার দিনে মদ্যপ অবস্থায় অশান্তি ছড়ানোর প্রবণতা বেশি থাকে। সেই ঝুঁকি এড়াতেই এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও অসম, কেরল, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরিতেও একই নিয়ম বহাল থাকবে।
তাই হাতে সময় থাকতে আপনার এলাকার ক্যালেন্ডার দেখে সতর্ক হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখবেন, কমিশন চাইছে ভোট যেন উৎসবের মতো শান্তিপূর্ণ হয়, কোনো বিশৃঙ্খলা নয়।