অন্ধকার জয় করে বিচারকের আসনে! কেরলের ইতিহাসে প্রথম দৃষ্টিহীন মহিলা বিচারক হয়ে নজির গড়লেন থানিয়া

অন্ধকারকে জয় করে আলোর পথে পা বাড়ালেন কেরলের ২৪ বছর বয়সী তরুণী থানিয়া নাথান সি। কেরলের বিচার বিভাগীয় ইতিহাসে তৈরি হতে চলেছে এক নয়া অধ্যায়। সব ঠিক থাকলে, আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই রাজ্যের প্রথম সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন মহিলা বিচারক হিসেবে কাজে যোগ দেবেন তিনি। কেরল জুডিশিয়াল সার্ভিসে সিভিল জজ (জুনিয়র ডিভিশন) নির্বাচনের মেধা তালিকায় প্রতিবন্ধী বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন থানিয়া।
পথ দেখাল সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী রায়: থানিয়ার এই সাফল্যে বড় ভূমিকা পালন করেছে সুপ্রিম কোর্টের একটি ঐতিহাসিক রায়। ২০২৫ সালে বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং আর. মহাদেবনের বেঞ্চ জানিয়েছিল, কোনো প্রার্থীর শারীরিক অক্ষমতা বিচারক হওয়ার পথে বাধা হতে পারে না। আদালত স্পষ্ট বলেছিল, রাষ্ট্রকে বরং প্রতিবন্ধীদের জন্য সহায়ক পরিকাঠামো গড়ে তোলা উচিত। এই রায়ের পরই থানিয়ার মতো লড়াকু প্রার্থীদের বিচারক হওয়ার পথ প্রশস্ত হয়। উল্লেখ্য, এই মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত জয়সন সাজন।
টেকনোলজি ও ইচ্ছাশক্তির মেলবন্ধন: কান্নুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি-তে প্রথম হওয়া থানিয়া ব্রেইল পদ্ধতি ব্যবহার করে আইনের পাঠ নিয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমানে ‘স্ক্রিন-রিডিং সফটওয়্যার’-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তি তাঁর কাজকে অনেকটা সহজ করে দিয়েছে। কান্নুরের তালিপারাম্বায় সিনিয়র আইনজীবী কেজি সুনীলকুমারের জুনিয়র হিসেবে কাজ করতে গিয়েই তিনি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন। থানিয়া আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, পুরোনো নথি পড়তে কিছু সমস্যা হলেও সব ধরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিচারকের আসনে বসতে তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। কেরল হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই নিয়োগের তালিকা সরকারের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে, খুব শীঘ্রই হাতে আসবে নিয়োগপত্র।