সাভারকরকে দেওয়া হোক ‘ব্রিটিশ রত্ন’! মোহন ভাগবতের দাবিতে আগুন ঝরানো পাল্টা তোপ বিরোধীদের

বীর সাভারকরকে ‘ভারত রত্ন’ সম্মানে ভূষিত করা নিয়ে ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের দাবানল জ্বলে উঠেছে। আরএসএস (RSS) প্রধান মোহন ভাগবতের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিজেপি এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাক্যযুদ্ধ। মুম্বইয়ে আরএসএস-এর শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে ভাগবত বলেন, সাভারকরকে এই সম্মান দিলে খোদ ‘ভারত রত্ন’-এর মর্যাদা বাড়বে। তাঁর এই মন্তব্যের পরই আসরে নামে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলি।
কংগ্রেস নেতা ইমরান মাসুদ কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, সাভারকরই প্রথম ব্যক্তি যিনি ‘দ্বি-জাতি তত্ত্ব’ বা টু-নেশন থিওরির প্রচার করেছিলেন, যা পরবর্তীকালে মুসলিম লীগ গ্রহণ করে এবং দেশভাগের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা হোসেন দলওয়াই আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, “যখন কংগ্রেস স্বাধীনতার লড়াই লড়ছিল, সাভারকর তখন ব্রিটিশদের সাহায্য করছিলেন। তিনি একজন ফ্যাসিবাদী ছিলেন। মোহন ভাগবতের উচিত ব্রিটিশ সরকারকে বলা যাতে তারা সাভারকরকে ‘ব্রিটিশ রত্ন’ উপাধি দেয়।”
কংগ্রেস সাংসদ প্রমোদ তিওয়ারি অভিযোগ করেছেন যে, বিজেপি এখন ‘ভারত রত্ন’-কে একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তাঁর মতে, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক স্বার্থেই এই ধরণের নামের তালিকা তৈরি করা হয়। তবে বিরোধীদের এই প্রবল আপত্তির মুখেও অনড় বিজেপি শিবির। সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত ভাগবতের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, সাভারকরকে এই সম্মান দেওয়া প্রতিটি ভারতীয়র কাছে গর্বের বিষয় হবে। সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর রাজনীতির আঙিনায় বীর সাভারকরকে নিয়ে ‘ভারত রত্ন’ বিতর্ক এখন তুঙ্গে।