পাওয়ারের গড়ে পদ্ম-বিস্ফোরণ! বারামতিতে ধরাশায়ী বিরোধীরা, মহারাষ্ট্রে গেরুয়া ঝড়ের ইঙ্গিত

মহারাষ্ট্রের ১২টি জেলা পরিষদ এবং ১২৫টি পঞ্চায়েত সমিতির নির্বাচনে আজ বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষ করে শরদ পাওয়ারের খাসতালুক হিসেবে পরিচিত বারামতিতে বিজেপির জয় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। সোমবার সকাল ১০টা থেকে ভোটগণনা শুরু হতেই প্রাথমিক ট্রেন্ডে শাসক জোট ‘মহাযুতি’, বিশেষ করে ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) শক্ত অবস্থানে দেখা যাচ্ছে।

বারামতিতে বড় জয় বিজেপির জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির (NCP) অবিসংবাদিত দুর্গ বারামতিতে বিজেপি বড়সড় থাবা বসিয়েছে। বারামতি তালুকের সুপে আসনে বিজেপি প্রার্থী উজ্জ্বলা পোপট খায়েরে ২,৭০০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই জয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর পর সৃষ্ট পরিস্থিতির মাঝেও বিজেপি এই আসনে নিজেদের আধিপত্য প্রমাণ করেছে। স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, পাওয়ার পরিবারের গড়ে এই জয় আগামীর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।

ছত্রপতি সম্ভাজিনগরেও এগিয়ে গেরুয়া শিবির মারাঠওয়াড়া অঞ্চলের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছত্রপতি সম্ভাজিনগরেও বিজেপির দাপট অব্যাহত। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই জেলায় অন্তত ৬টি আসনে বিজেপি প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। বিরোধী জোট ‘মহা বিকাশ আঘাদি’ (MVA) কড়া টক্কর দেওয়ার চেষ্টা করলেও প্রাথমিক গণনায় তারা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে।

বিদর্ভ ও কোঙ্কনের চিত্র গড়চিরোলি এবং ওয়ার্ধা জেলায় লড়াই বেশ হাড্ডাহাড্ডি হচ্ছে। সেখানে কিছু আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও চমক দিচ্ছেন। অন্যদিকে, কোঙ্কন উপকূলের সিন্ধুদুর্গ জেলার সাওয়ান্তওয়াড়িতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দাপটে মহাযুতি কিছুটা চাপের মুখে রয়েছে। লাতুরে বিজেপি এবং কংগ্রেসের মধ্যে সেয়ানে সেয়ানে লড়াই চলছে।

উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের আকস্মিক প্রয়াণের পর এই প্রথম রাজ্যে বড় কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। বিকেলের মধ্যে ১২টি জেলার চিত্র পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে মনে করছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। এই জয়কে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের সূচনা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।