সোনার দামে বড় ধস, কিন্তু কেন চড়ছে রুপো? ২ দিনে ৩,৩০০ টাকা সস্তা সোনা, বিভ্রান্তিতে লগ্নিকারীরা!

বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় খবর! গত কয়েকদিনের রেকর্ড দামের পর দিল্লির বুলিয়ন মার্কেটে বড়সড় পতনের মুখ দেখল সোনা। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে সোনার দাম কমেছে প্রায় ৩,৩০০ টাকা। তবে উল্টো চিত্র দেখা গিয়েছে রুপোর ক্ষেত্রে। সোনার দাম কমলেও বুধবার রুপোর দর সামান্য বেড়েছে।
আজকের বাজার দর এক নজরে (২৯ এপ্রিল, ২০২৬):
| ধাতু | পরিমাণ | বর্তমান দাম (কর সহ) | দামের পরিবর্তন |
| ৯৯.৯% বিশুদ্ধ সোনা | প্রতি ১০ গ্রাম | ১,৫২,৮০০ টাকা | ₹১,৫০০ হ্রাস ↓ |
| রুপো | প্রতি কেজি | ২,৪৪,৫০০ টাকা | ₹৫০০ বৃদ্ধি ↑ |
কেন কমছে সোনার দাম?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত তিনটি কারণে সোনার দাম কমছে:
১. মুনাফা তুলে নেওয়া (Profit Booking): দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর বিনিয়োগকারীরা ব্যাপক হারে সোনা বিক্রি করে মুনাফা তুলে নিচ্ছেন।
২. ডলারের শক্তি: অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কড়া রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার শক্তিশালী হচ্ছে এবং সোনার ওপর চাপ বাড়ছে।
৩. মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ: পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার জেরে জ্বালানি খরচ বাড়ছে। এর ফলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলো দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর আর্থিক নীতি বজায় রাখতে পারে, যা সোনার দামের উর্ধ্বগতিকে সীমিত করে দিচ্ছে।
রুপোর দাম কেন লাফিয়ে বাড়ছে?
গত মঙ্গলবার রুপোর দামে ব্যাপক পতন দেখা গিয়েছিল, যার ফলে দাম ২.৫০ লক্ষ টাকার নিচে নেমে আসে। বুধবার সেই পতন থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে রুপো। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিল্পক্ষেত্রে রুপোর চাহিদা এবং নিম্নমুখী দাম দেখে নতুন করে কেনাকাটা শুরু হওয়ায় এদিন দাম ৫০০ টাকা বেড়েছে।
চাহিদার গ্রাফ উর্ধ্বমুখী
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (WGC)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, দাম আকাশছোঁয়া হওয়া সত্ত্বেও ভারতে সোনার চাহিদাতে ভাটা পড়েনি। ২০২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ভারতে সোনার চাহিদা গত বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেড়ে ১৫১ টনে পৌঁছেছে। মূলত শক্তিশালী বিনিয়োগ চাহিদাই এই বাজারকে ধরে রেখেছে।
বিশেষজ্ঞের রায়: এলকেপি সিকিউরিটিজের যতীন ত্রিবেদী জানিয়েছেন, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের আসন্ন মন্তব্য এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনে সোনা কতটুকু সস্তা বা দামি হবে।